ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন-বিধান। আর পৃথিবী হলো ক্ষণস্থায়ী আবসস্থল। পরিপূর্ণ এই জীবন-বিধান অনুসরণ করে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর পরীক্ষায় উত্তম আমলের মাধ্যমে উত্তীর্ণরাই পরকালে সফল হিসেবে বিবেচিত হবেন। যাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জান্নাত। আর সফল হতে না পারাদের জন্য রয়েছে চিরশাস্তির জাহান্নাম।
পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের পূর্ণমাত্রায় বিনিময় দেয়া হবে। যে ব্যক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, অবশ্যই সে ব্যক্তি সফলকাম হলো, কেননা পার্থিব জীবন ছলনার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়। (সুরা ইমরান, আয়াত: ১৮৫)
এ ক্ষেত্রে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে অনেক সময় নানা বিপদ-আপদের মাধ্যমেও মহান রাব্বুল আলামিন বান্দার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। কখনো এটি হতে পারে শারীরিক কোনো রোগ-ব্যাধি দিয়ে, আবার কখনো তা হতে পারে অভাব-অনটন কিংবা জীবন বা সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে। তবে মুমিনের উচিত, এমন মুহূর্তগুলোয় বিচলিত না হয়ে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা ও নবীজির (সা.) দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা।
এজন্য পরকালে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে উম্মতদের নানা বিষয়ে যেমন আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.), তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এরমধ্যে একটি হাদিসে অভাব-অনটন থেকে মুক্তি ও সচ্ছলতা চেয়ে দোয়ার কথা এসেছে।
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো, একবার মালিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এক গোলাম (মুকাতিব) তার এর কাছে এসে বলল- আমি আমার চুক্তি অনুসারে বিনিময় মূল্য দিতে অপারগ হয়ে পড়েছি। আপনি আমাকে কিছু সাহায্য করুন। জবাবে আলী (রা.) বললেন, তোমাকে এমন কিছু কালিমা আমি শিখিয়ে দেব কি, যেগুলো রাসুল (সা.) আমাকে শিখিয়েছিলেন? তোমার জিম্মায় যদি ছবীর পাহাড় (তায় কাবীলায় অবস্থিত আরবের একটি বড় পাহাড়) ঋণও থাকে, তবে এতে আল্লাহ তা’য়ালা তাও আদায় করে দেবেন। তুমি বলবে-
اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلاَلِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
বাংলা: আল্লাহুম্মাক-ফিনি বি-হালালিকা, আন-হারামিকা, ওয়াগনিনি বিফাদলিকা আম্মান-সিওয়াকা।
অর্থ: হে আল্লাহ! হারাম থেকে মুক্ত রেখে তোমার প্রদত্ত হালাল বস্তুই আমার জন্য যথেষ্ট করে দাও। তোমার অনুগ্রহে তুমি ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দাও। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩)
অপর একটি হাদিসে মহান রবের কাছে হেদায়াত ও সচ্ছলতা চেয়ে দোয়ার কথা এসেছে। আবদুল্লাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) এই বলে দোয়া করতেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
বাংলা: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত-তুকা, ওয়াল আফাফা, ওয়াল গিনা।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, নিষ্কলুষতা ও সচ্ছলতার জন্য প্রার্থনা করছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৫৬)

