আবারও আলোচনায় বিদেশে নির্বাসিত ইরানের ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলাভি। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের শুরু থেকেই উসকানি দিয়ে আসছেন এই ক্রাউন প্রিন্স। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের পক্ষে একের পর এক বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও রয়েছে তার যোগাযোগ।
মূলত, শিয়া মুসলিম হওয়ার পরও জেরুজালেমে ইহুদিদের মতো করেই প্রার্থনা করতে দেখা যায় রেজাকে। ঘনিষ্ঠতা রয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যখন জ্বলছে ইরান, তখন আবারও আলোচনায় এই ইরানি যুবরাজ। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানের ইসলামী বিপ্লবী সরকারের পতনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন বার্তা দিয়ে আসছেন। রাজপথে অনড় অবস্থান নিয়ে শহরের কেন্দ্র দখল করতে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ পাঠিয়েছেন ভিডিওবার্তায়।
রেজা বলেন, ‘আমার প্রিয় দেশবাসী, ইরানের রাস্তায় আপনাদের বিশাল উপস্থিতি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিশ্বাসঘাতক ও খুনি শাসকদের জন্য দাতভাঙ্গা জবাব। এমন পরিস্থিতিতে আমি দেশের অর্থনীতির মূল খাতগুলো, বিশেষ করে পরিবহন, তেল-গ্যাস এবং জ্বালানি শ্রমিক ভাইদের দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য এখন আর সড়কে সীমাবদ্ধ নেই। এখন আমাদের উদ্দেশ্য শহরের কেন্দ্রগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়া। আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন, প্রয়োজনীয় রসদ সঙ্গে রাখুন, বিজয় আমাদেরই হবে।’
চার দশকের বেশি সময় ধরে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন রেজা পাহলাভি। এ অবস্থায় সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার উসকানি নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। আন্দোলনকারীদের অনেককেই ইরানের রাজতন্ত্রের পক্ষে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একদিকে ইহুদি সম্পৃক্ততা অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা ঘনিষ্ঠতা রয়েছে রেজা পাহলাভির। খামেনি প্রশাসনকে সরিয়ে তার নেতৃত্বে আবারও রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হতে পারে, এমন আভাসও দিচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।
অবশ্য, নির্বাসিত হলেও নিজেকে ‘ক্রাউন প্রিন্স’ বলেই পরিচয় দেন রেজা। বাবার হারানো মসনদে বসতেই রাজতন্ত্র ফেরাতে চান কী না, এমন প্রশ্নের উত্তর জনগণের হাতে ছেড়ে দেয়ার কথা জানান তিনি।
১৯৭৯ সালে ঐতিহাসিক ইসলামী বিপ্লবের সময় সপরিবারে ইরান ত্যাগ করে মিশরে আশ্রয় নেন তৎকালীন সম্রাট মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহেলভী। দেশত্যাগের পর মরক্কো, বাহামা ও মেক্সিকো ঘুরে বাবার মৃত্যুর পর মার্কিন মুলুকে স্থায়ী হন রেজা পাহেলভী। দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন ৬৫ বছর বয়সী রেজা। বর্তমানে স্ত্রী ইয়াসমিন এতেমাদি ও তিন সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে বাস করছেন তিনি।
শুধুমাত্র নির্বাসিত যুবরাজ নয়, যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবেও পরিচিত রেজা। ১৭ বছর বয়সে প্রথমে ইম্পেরিয়াল ইরানি বিমান বাহিনীর একজন ক্যাডেট হিসেবে তার যাত্রা শুরু। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষন নেন তিনি। বর্তমানে একজন সৌখিন আলোকচিত্রী, পাইলট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি।

