যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের সামরিক অভিযান ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে এবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। মাদক পাচার রোধ, তেল সম্পদ এবং অভিবাসন ইস্যুতে এই সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যেখানে চাইবে এবং যখন চাইবে, আমি সংলাপের জন্য প্রস্তুত।” তবে নিজের দেশে সিআইএ-র ড্রোন হামলা সংক্রান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত তিন মাস ধরে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। গত সোমবার ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় একটি ‘ডকিং ফ্যাসিলিটি’ লক্ষ্য করে সিআইএ পরিচালিত প্রথম সফল ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। সর্বশেষ বুধবারও দুটি নৌকায় মার্কিন হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করেছেন এবং মাদুরো সরকারকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন।
পাল্টা অভিযোগে মাদুরো দাবি করেছেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেনেজুয়েলা মূলত মাদকের একটি ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে মূল উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া। মূলত কলম্বিয়ার মাদকই অন্য পথ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে।

