spot_img

ইরানে আবারও হামলা করা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা নেতানিয়াহুর

অবশ্যই পরুন

ইরানে দ্বিতীয় দফা হামলার সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান এবং সেখানেই ইরানে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এর ফলে পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যু ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, হোয়াইট হাউসে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে লেবাননে হিজবুল্লাহর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার কথাও জানান বলে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈঠকে ২০২৬ সালে আবারও ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর আগে সদ্যসমাপ্ত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল।

সে সময়ের অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা। জুনে চালানো সেই হামলাকে ‘বিশাল সফলতা’ বলে বর্ণনা করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন—‘ইরান যদি আবার তার পারমাণবিক কর্মসূচি গড়তে চায়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও তা ধ্বংস করবে’। মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার দিকে ‘বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ’ নেয় বলে মনে হয়, তাহলে ট্রাম্প নতুনভাবে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষেও যেতে পারেন। তবে ‘পুনর্গঠন বলতে ঠিক কী বোঝাবে— সেটি নিয়ে একমত হওয়াই বড় বিষয়’।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র মজুতের অভিযোগও তুলেছে তারা। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনও আগ্রাসনের ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে। ট্রাম্পকে ‘সম্মানজনক পরিবেশে’ আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের সময়সূচি বা কোন পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে সে বিষয়ে কোনও সমঝোতা হয়নি বলেও জানান মার্কিন ওই কর্মকর্তা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। আর হোয়াইট হাউস অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের দিকেই নজর রাখতে বলেছে।

এর আগে গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি বড় পারমাণবিক স্থাপনায়— ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে হামলা চালায়। সেই হামলার এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল। এতে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীরা নিহত হন এবং বেশ কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনাও টার্গেট করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এগোনোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছেন ট্রাম্প। হামাস নিরস্ত্র হতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপে সমর্থন দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। গাজা বোর্ড অব পিস আগামী ২৩ জানুয়ারি দাভোসে বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকাটি পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার লাগবে বলে হিসাব দিয়েছে জাতিসংঘ।

সর্বশেষ সংবাদ

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিচ্ছেন ট্রাম্প

তুরস্কের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি ‘খুব গুরুত্ব সহকারে’ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ