তোশাখানা-২ মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের পর পাকিস্তানের বর্তমান বিচার ব্যবস্থাকে ‘পুতুল নাচের’ সাথে তুলনা করে দেশজুড়ে গণআন্দোলনের ডাক দিয়েছেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ন্যায়বিচারের সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজপথের সংগ্রামই এখন একমাত্র বিকল্প।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিশেষ আদালতের বিচারক শাহরুখ আরজুমান্দ তোশাখানা-২ মামলার শুনানি শেষে ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয়কে ১ কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের অতিরিক্ত সময় জেল খাটতে হবে। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে বন্দী থাকা ইমরান খানের বিরুদ্ধে এটি নতুন এক বড় সাজার খড়্গ।
রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় ইমরান খান দাবি করেন, পাকিস্তানে বর্তমানে আইনের শাসনের ‘শেষকৃত্য’ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বর্তমান বিচার ব্যবস্থাকে ২০০৭ সালের মোশাররফ আমলের পিসিও বিচারকদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন— আইনি প্রয়োজনীয়তা পূরণ না করেই তড়িঘড়ি করে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ইমরান বা তার আইনজীবীদের কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিচারকরা এখন ‘আসিম ল’-এর নির্দেশে কেবল আগে থেকে লিখে রাখা রায় পড়ে শোনাচ্ছেন।
ইমরান খান অভিযোগ করেন, তাকে ও তার স্ত্রীকে নির্জন কারাবাসে রেখে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। সাধারণ বন্দীরা টিভি দেখার সুযোগ পেলেও তাদের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো বইগুলোও তাদের কাছে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কারাবন্দী এই নেতা তার অনুসারী সোহেল আফ্রিদিকে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যেন পুরো জাতিকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তিনি বলেন, সংগ্রামই ইবাদত। পাকিস্তানের প্রকৃত স্বাধীনতার জন্য আমি শাহাদাত বরণেও প্রস্তুত।
বিশেষ করে আইনজীবীদের সংবিধান পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সাক্ষাতের সময় ইমরান খানের সঙ্গে কাউকে দেখা করতে দিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইমরান খান তার আদর্শ থেকে এক ইঞ্চিও সরবেন না এবং প্রয়োজনে শহীদ হয়ে জনগণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন।

