spot_img

কোনো হুমকির মুখেই আপস করবে না ইরান

অবশ্যই পরুন

তিনটি ইউরোপীয় দেশের ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ—স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাওয়ানি। তিনি বলেছেন, এটি যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার বিরোধ নিষ্পত্তি (ডিআরএম) প্রক্রিয়াকে পথভ্রষ্ট করছে।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার, ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা পরিষদে একটি নোটিশ জমা দেয়, যাতে ডিআরএম বা স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া সক্রিয় করার কথা বলা হয়। এর মাধ্যমে তারা ২০১৫ সালের জাতিসংঘের প্রস্তাব ২২৩১ অনুযায়ী ইরানের ওপর পূর্বে তুলে নেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করতে চায়।

ইরাওয়ানি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু হুমকি বা জোরজবরদস্তির মুখে কখনোই আলোচনা করবে না।

শুক্রবার স্থানীয় সময় জাতিসংঘ সদর দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরাওয়ানি বলেন, বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠিয়ে তথাকথিত স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া সক্রিয় করেন, যা মূলত ইরানকে ব্ল্যাকমেইল এবং রাজনৈতিক চাপে ফেলার একটি চেষ্টা।

তিনি জানান, ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই অবৈধ এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপকে যুক্তিসম্পন্ন দেখানোর জন্য একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আহ্বান করে এবং নিরাপত্তা পরিষদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করে। ওই বৈঠক ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় তিন দেশের প্রতিনিধিরা আবারও এখানে এসে ভিত্তিহীন অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেছেন, অথচ নিজেরাই জেসিপিওএ ও প্রস্তাব ২২৩১-এর প্রতি নিজেদের ব্যর্থতা ও গুরুতর লঙ্ঘনের কথা উপেক্ষা করেছেন। এটি বাস্তবতা বিকৃত করার এবং নিজেদের রাজনৈতিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার আরেকটি মরিয়া প্রচেষ্টা।

ইরাওয়ানি স্পষ্ট করে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের এই স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করার অবৈধ পদক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা করে। এটি জেসিপিওএ’র ডিআরএম থেকে বিচ্যুত হওয়া একটি পদক্ষেপ এবং বাতিল করা রেজোলিউশনগুলো পুনরায় জারি করার অবৈধ প্রচেষ্টা, যা স্পষ্টভাবে প্রস্তাব ২২৩১-এর লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, এই তিনটি ইউরোপীয় দেশের স্ন্যাপব্যাক প্রক্রিয়া সক্রিয় করার কোনো আইনগত বা নৈতিক ভিত্তি নেই। তাদের এই ঘোষণা পুরোপুরি বাতিলযোগ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, জেসিপিওএ’র বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে চলে এবং এটি এমন অপব্যবহার ঠেকাতে নকশা করা হয়েছে যাতে অংশগ্রহণকারীরা (ইউরোপের তিন দেশ) নিজেরাই চুক্তি মানেনি, তারা প্রক্রিয়াটি অপব্যবহার করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের কিছু সদস্য যেমন চীন ও রাশিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, ইউরোপীয় ত্রয়ী সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। এটি একটি ভুল ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।

ইরাওয়ানি আরও বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বছরের পর বছর ধরে নিরাপত্তা পরিষদ, জাতিসংঘ মহাসচিব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (জেসিপিওএ সমন্বয়কারী) যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় তিন দেশের গুরুতর লঙ্ঘনের অসংখ্য উদাহরণ জানিয়ে এসেছে। এসব লঙ্ঘনের সম্পূর্ণ দলিল রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া ছিল ধাপে ধাপে, আনুপাতিক এবং সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত। ইউরোপীয় তিন দেশের এই পদক্ষেপ বাস্তবতা বিকৃত করে — যা অপরাধীকে পুরস্কৃত করে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দেয়।

ইরান দূত বলেন, পরিস্থিতি পরিষ্কার যুক্তরাষ্ট্র জেসিপিওএ থেকে সরে গিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তিনটি ইউরোপীয় দেশ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি; তারা বরং নতুন ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরান সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়েছে, আলোচনা করেছে, কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে। আলোচনার ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোই দায়ী—ইরান নয়।

সূত্র: মেহের নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ ‘সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস’র প্রতিনিধি দলের

ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস-এর প্রতিনিধি দল। আজ শনিবার (৩০...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ