অনেকেই মুখের ভেতরে ঘা বা জ্বালাপোড়া সমস্যায় ভোগেন। এটি বেশ যন্ত্রণাদায়ক এবং খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলার সময় অসুবিধার সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে ও জিহ্বায় ঘা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের অভাব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন ভিটামিনের অভাবে এই সমস্যা হয় এবং কীভাবে প্রতিকার করা যায়।
মুখে ও জিহ্বায় ঘা হওয়ার কারণ
মুখের ঘা সাধারণত বিভিন্ন কারণে হতে পারে। যেমন: ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, গরম বা অম্লীয় খাবারের কারণে জ্বালা, দাঁত বা মুখের ভেতরের অংশে আঘাত, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ভিটামিনের অভাব।
১. ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন) অভাব: ভিটামিন বি২-এর ঘাটতির কারণে কোনার স্টোমাটাইটিস হয়, যা সাধারণত মুখের কোণায় ফেটে যাওয়া এবং ব্যথার কারণ হতে পারে।
লক্ষণ: মুখের কোণ ফেটে যাওয়া, শুকনো ও লালচে জিহ্বা, ঠোঁটের চারপাশে জ্বালাপোড়া
ভিটামিন বি২-এর উৎস: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম, পালংশাক, মাছ
লক্ষণ: মুখ ও জিহ্বায় লালচে দাগ, ত্বকে ফোলা ভাব, খিদে কমে যাওয়া
ভিটামিন বি৩-এর উৎস: মাছ ও মাংস, বাদাম, শাক-সবজি, ডাল
৩. ভিটামিন বি৬ (পাইরিডক্সিন) অভাব: এটি শরীরের প্রোটিন বিপাকে সাহায্য করে। এর অভাব হলে মুখে ব্যথাযুক্ত ঘা দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি৬-এর উৎস: কলা, মাছ, আলু, মুরগির মাংস
৪. ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন) অভাব: এটি রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। এর অভাব হলে মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হতে পারে, যার ফলে মুখে ঘা হতে পারে।
লক্ষণ: জিহ্বার রং লাল হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, খাওয়ার সময় ব্যথা
ভিটামিন বি১২-এর উৎস: গরুর মাংস, ডিম, দুধ, সামুদ্রিক মাছ
৫. ফোলিক অ্যাসিড (ভিটামিন বি৯) অভাব: এটি নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে। এর অভাবে মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।
লক্ষণ: মুখে ঘা, ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া
ফোলিক অ্যাসিডের উৎস: লালশাক, ডাল, কলা, কমলালেবু
প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা
সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন: প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাক-সবজি, ফল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান।
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গ্রহণ করুন: যদি খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন না পান, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন।
মুখ পরিষ্কার রাখুন: নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা এবং মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীর আর্দ্র রাখলে জিহ্বা ও মুখের কোষের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
মশলাদার ও টকজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন: বেশি মশলা বা টকযুক্ত খাবার খেলে ঘা বেড়ে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি মুখে ঘা দীর্ঘদিন না সারে বা ঘন ঘন হতে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ যেমন ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ওজন কমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
মুখে বা জিহ্বায় ঘা সাধারণত কোনো গুরুতর সমস্যা নয়, তবে এটি বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। সঠিক খাবার খেলে এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণ করলে এই সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা যায়।
শরীর সুস্থ থাকলে হাসি থাকবে মুখে, আর মুখ সুস্থ থাকলে জীবন হবে আনন্দময়!