কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র। খবর রয়টার্সের।
শনিবার (১১ মার্চ) তিনি এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ এবং ‘গভীর আগ্রহের’ ইঙ্গিত বহন করে।
সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সরাসরি জড়িত হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে। আলোচনায় এ বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র কত অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ জানাননি ওই জ্যেষ্ঠ সূত্র। এদিকে আরেকটি ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে আটক প্রায় ৬০০ কোটি ডলার ছাড়তে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে দ্রুত সাড়া দেয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ইরানের তেল বিক্রির অর্থ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে জমা থাকা এই তহবিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে যায়। ওই বছরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়ে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তির আওতায় ইরানে আটক পাঁচ মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচ ইরানিকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে একই বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন পুনরায় এই অর্থ জব্দ করে। তখন মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই তহবিলে ইরানের প্রবেশাধিকার অনির্দিষ্টকালের জন্য সীমিত থাকবে এবং প্রয়োজনে পুরোপুরি স্থগিত করার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্য—ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।

