স্কুলপড়ুয়া শিশুদের মধ্যে হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা খুব দ্রুত একজন শিশু থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ যেমন স্কুল, ডে-কেয়ার বা খেলার মাঠ—এসব জায়গায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এ বিষয়ে লিখেছেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী
হাম মূলত সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসটি বাতাসে কিছু সময় ভেসে থাকতে পারে, ফলে আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে না গেলেও একই পরিবেশে থাকলে অন্যরা আক্রান্ত হতে পারে। হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো মনে হতে পারে। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন-
- জ্বর (প্রায়ই বেশি থাকে)
- কাশি, সর্দি
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া (Conjunctivitis)
- ২–৪ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে র্যাশ ছড়িয়ে পড়া ইত্যাদি।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিরোধের উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে MR/MMR টিকা গ্রহণ করা।
টিকা শুধু শিশুকে সুরক্ষা দেয় না, বরং পুরো স্কুল পরিবেশকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।
- নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
- কাশি বা হাঁচির সময় রুমাল বা টিস্যু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা
- নিজের পানির বোতল, রুমাল, টিফিন আলাদা ব্যবহার করা
- অসুস্থ সহপাঠীর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা
- স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ইত্যাদি।
যা করা উচিত নয়
- জ্বর বা র্যাশ থাকলে স্কুলে যাওয়া
- অন্যের ব্যবহার করা জিনিস শেয়ার করা
- কাশি বা হাঁচি খোলা অবস্থায় দেওয়া
- অসুস্থতা লুকিয়ে রাখা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ইত্যাদি।
অভিভাবকদের করণীয়:
- শিশুর জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে স্কুলে না পাঠানো
- অন্তত ৪ দিন শিশুকে আলাদা রাখা
- টিকাদান সময়মতো নিশ্চিত করা
- শিশুর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নেওয়া।
স্কুল কর্তৃপক্ষের করণীয়:
- শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা
- নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
- স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রমের আয়োজন করা
- অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। যেমন—
- অত্যধিক জ্বর
- শ্বাসকষ্ট
- খাওয়াদাওয়ায় অনীহা
- শিশুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ইত্যাদি।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, কিন্তু অবহেলা করলে তা গুরুতর রূপ নিতে পারে। সচেতনতা, টিকাদান এবং সময়মতো পদক্ষেপই স্কুল পর্যায়ে হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মনে রাখতে হবে—একজন শিশুর সচেতনতা পুরো একটি শ্রেণিকক্ষকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।

