স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের যৌথ চেষ্টায় ৫ এপ্রিল থেকে দেশের হামের বেশি সংক্রামক ১৮টি জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেদিনই ৭৬ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনেই টিকাদান কর্মসূচিতে আমরা ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত সফল হয়েছি। আল্লাহর রহমতে এর প্রকোপ কিছুটা কমে কমে আসছে। একইসঙ্গে টিকা কার্যক্রমও চলছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডের আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত দুই আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহে যে সংকট সৃষ্টি করে গেছে, এমনকি ২০২০ সালের পর যা ছিল, তাও দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যার কারণে হাম মহামারি আকারে দেখা দিয়েছিল। এখনও হাম আছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে আমরা বিষয়টিকে স্ট্রিমলাইন করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। সারা বাংলাদেশে ৩ মে থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। অদম্য গতিতে এবং নির্ভেজালভাবে, কোনো রকম বিরতি না দিয়ে প্রতিদিন আমরা জনগণের পাশে থেকে টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাব।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের মাধ্যমে হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্য কোনো ফার্মের কাছ থেকে টিকা কেনা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় মারপ্যাঁচ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি ১০০ ভাগ নির্মূল করতে চাই। দুর্নীতি করতেই স্বাস্থ্যের কেনাকাটায় মারপ্যাঁচ রাখা হয়। নৈতিকতার উন্নতি না হলে এই খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক কোম্পানির ওষুধে উপাদানের ঘাটতি আছে। তারপরও তারা বাজারে রয়েছে। অন্যদিকে অনেক ভালো কোম্পানিকে নানা কারণে আটকে রাখা হয়। এই খাতের টেকসই উন্নয়নে স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ কোম্পানি ও প্রশাসনের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

