ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকানদের নরকে টেনে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সাধারণ আমেরিকানদের জীবনকে আরও খারাপ করে তুলছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের আল্টিমেটামের জবাবে এ মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার।
রোববার ট্রুথ সোশ্যালে এক অশালীন ভাষায় ভরা পোস্টে ট্রাম্প সতর্ক করেন, মঙ্গলবার রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) (বুধবার ১২টা জিএমপি)-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে না দিলে ইরান নরকে বসবাস করবে। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বোমা হামলার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর এক্স-এ এর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্বালিবাফ ট্রাম্পকে তার ভাষায় বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
তিনি লেখেন, “আপনার বেপরোয়া পদক্ষেপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের জন্য এক জীবন্ত নরক ডেকে আনছে এবং আপনি নেতানিয়াহুর নির্দেশনা অনুসরণ করতে থাকায় আমাদের পুরো অঞ্চলই জ্বলবে।”
গালিবাফ বলেন, “ভুল করবেন না। যুদ্ধাপরাধের মাধ্যমে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলা শুরু করার পরপরই ইরান “শত্রু জাহাজগুলোর” জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে তেহরান জানায়, নৌ চলাচলের নিয়ম পরিবর্তন করা হবে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এই প্রণালি অপ্রবেশযোগ্য থাকবে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ২০–২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। চলমান সংঘাতজনিত বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে—সেখানে গ্যাসোলিনের গড় দাম ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলারে পৌঁছেছে।
ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলইয়ানভ বলেছেন, ওয়াশিংটন বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে যে তেহরান কেবল যৌক্তিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি মেনে নেবে, কোনো আল্টিমেটাম নয়।
সূত্র: আরটি

