এবারের ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে দেশের শত শত পরিবারে। ঈদকে কেন্দ্র করে ১৫ দিনের যাতায়াতে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২৬’ প্রকাশ করে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা প্রায় ৮.৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ৪৩ শতাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত হয়েছেন। বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল কেন্দ্রিক, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন।
এছাড়া রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের তালিকায় মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ট্রাক, কাভার্ডভ্যান এবং যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাও ছিল আশঙ্কাজনক। এমনকি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালেই এই সময়ে ২ হাজার ১৭৮ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিক-শ্রমিক নেতাদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ফলে যাত্রীদের ট্রাক বা ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপদ সড়কের জন্য যাত্রী কল্যাণ সমিতি দ্রুত প্রযুক্তির ব্যবহার, স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে।

