ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মৌসুম যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর ঘিরে আলোচনা। এবারের লড়াইয়ে একাধিক তারকা ফুটবলার রয়েছেন শক্ত অবস্থানে, যা প্রতিযোগিতাকে করে তুলেছে আরও জমজমাট।
বর্তমান পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার ধারাবাহিক গোল, গতি ও বড় ম্যাচে প্রভাব তাকে শীর্ষ দাবিদারদের কাতারে রেখেছে।
একইভাবে গোল করার ধারাবাহিকতায় আলোচনায় রয়েছেন আর্লিং হালান্ড। প্রতি ম্যাচেই গোল করার অভ্যাসে পরিণত করা এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তবে তার দল ম্যানচেস্টার সিটি ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে পড়ায় তার সম্ভাবনায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে মিডফিল্ড থেকে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে নজর কাড়ছেন জুড বেলিংহাম। গোল করা, আক্রমণ গড়া এবং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়া সব দিক থেকেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই ইংলিশ তরুণ। অনেক বিশ্লেষকের মতে, অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের বিচারে তিনিই এখন সবচেয়ে এগিয়ে।
বড় ম্যাচের পারফরম্যান্সে আলোচনায় আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার প্রভাব এবং গোল করার ক্ষমতা তাকে ব্যালন ডি’অরের আলোচনার কেন্দ্রেই রেখেছে। একইসঙ্গে ফ্রান্সের উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে আবারও আলোচনায় ফিরেছেন।
তবে এবারের দৌড়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আরও কয়েকজন তারকা। বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সবার নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে আর্সেনালের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা ডেকলান রাইস দলের সাফল্যে রাখছেন বড় অবদান।
পিএসজির মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীলতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন আলোচনায়। এ ছাড়া বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ব্যালন ডি’অর লড়াই হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। মৌসুমের শেষভাগের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে কার হাতে উঠবে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।

