মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে শান্তির একটি ‘আভাস’ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তবে একই সময়ে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা এখনো আলোচনায় বসতে রাজি নয়।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওয়াং ই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করছে। তিনি মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তির সঙ্গে ফোনালাপে এ মন্তব্য করেন।
একইসঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদারের সঙ্গেও আলাদা আলোচনায় তিনি সংলাপের ওপর জোর দেন এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা আরও প্রাণহানি ও অস্থিতিশীলতা ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি, এবং আমাদের অবস্থান সম্পূর্ণ নীতিগত।’
এদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে সতর্ক করা হয়েছে—যদি ইরান শান্তি প্রস্তাব না মেনে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ইরান গোপনে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, যদিও প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক বার্তা ও আলোচনার ইঙ্গিত থাকলেও বাস্তবে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ময়দানের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু প্রাণহানিই বাড়াবে না, বরং পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়াবে। ফলে দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছে বেইজিং।

