আঞ্চলিক কোনো দেশের সহায়তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের চেষ্টা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট ওই দেশের ওপর টানা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের শত্রুরা একটি প্রতিবেশী দেশের মদদে এই দ্বীপটি কব্জায় নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের ঘালিবাফ বুধবার (২৫ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক বার্তায় এই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ঘালিবাফ জানান, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমাদের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়, তবে ওই আঞ্চলিক দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে আমরা বিরামহীন ও ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাব।”
বিশ্লেষকদের মতে, ঘালিবাফের এই প্রচ্ছন্ন হুমকি মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকেই ইঙ্গিত করছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে আমিরাত খারগ দ্বীপ দখলের প্রচেষ্টায় ইন্ধন দিতে পারে-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তেহরান এই অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে ইরানকে ‘পরাজয় মেনে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে আগের চেয়েও কঠোর আঘাতের সম্মুখীন হতে হবে।
অন্যদিকে আলোচনার কথা বললেও সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে পেন্টাগন। উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের জন্য ইতিমধ্যে ২ হাজার সেনার একটি বিশেষ দল (৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন) এবং নৌবাহিনীর শক্তিশালী উভচর আক্রমণ জাহাজ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তেহরান থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ইরানের সাধারণ মানুষ সচেতন এবং তারা উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে শঙ্কিত। বিশেষ করে তেলের খনি সমৃদ্ধ খারগ দ্বীপকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হলে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা হুমকিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

