রমজান মাস শেষে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাওয়া একটি অভিজ্ঞতালব্ধ ও বাস্তবিক বিষয়। ইসলামে রমজানের বাইরেও সারা বছর নফল ও সুন্নাত সিয়ামের বিধান রাখা হয়েছে, যাতে একজন মুমিন সারাটি বছর এই আধ্যাত্মিক চার্জ গ্রহণের সুযোগ পায়।
ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহ.)-এর ভাষায়, ফরজ নামাযের আগে ও পরে যেমন সুন্নাত-নফলের বিধান রয়েছে, তেমনি রমজানের আগে ও পরে শাবান ও শাওয়াল মাসে রোজার বিধান আছে। এটি মূলত ফরজ ইবাদতের পরিপূরক এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে মুমিন কখনোই পথভ্রষ্ট হওয়ার শঙ্কায় থাকে না। (লাতায়েফুল মাআরিফ : ১৮৮)
সাপ্তাহিক অনুশীলন, সোম ও বৃহস্পতিবারের সিয়াম
রমজান পরবর্তী সময়ে সিয়ামের ধারা বজায় রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা। রাসুলে আকরাম (সা.)-এর নিয়মিত অভ্যাস ছিল এই দুই দিন সিয়াম পালন করা। সাহাবি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি দুটি বিশেষ দিকের কথা উল্লেখ করেন।
এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত, রাসুল (সা.)-এর আগমন এবং হেদায়েতের বাণী প্রাপ্তির শুকরিয়া আদায়ের শ্রেষ্ঠ উপায় হলো সিয়াম।
২. সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়। তো আমার পছন্দ, আমার আমল যেন পেশ করা হয় আমি রোজাদার অবস্থায়। (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭)
মাসিক আইয়্যামে বিজের রোজা
নবী (সা.)-এর কোন স্ত্রী থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) জিলহজ মাসের নবম তারিখ এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোজা পালন করতেন-সোমবার (দুই সোমবার) ও বৃহস্পতিবার। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৪১৮)
আবু জর গিফারি (রা.)-কে নবীজী (সা.) এই তিন দিন রোজা রাখতে বিশেষভাবে উত্সাহিত করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) এই আমলকে রাসুলের একটি বিশেষ ওসিয়ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি সফরে থাকলেও রাসুল (সা.) এই রোজাগুলো ছাড়তেন না।
বার্ষিক বিভিন্ন বিশেষ দিবসের সিয়াম
১. শাওয়াল মাসের ছয় রোজা
রমজান পরবর্তী প্রথম পুরস্কার হলো শাওয়ালের ছয়টি রোজা। রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজানের পর এই ছয় রোজা রাখলে সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। কোরআনের নীতি অনুযায়ী, একটি নেক আমল ১০ গুণ সওয়াব বয়ে আনে। সে হিসেবে ৩৬ দিনের রোজা ৩৬০ দিন বা পূর্ণ এক বছরের সওয়াব এনে দেয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬৪)
২. জিলহজ মাসের প্রথম দশক ও আরাফাহর রোজা
জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন বছরের শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্তর্ভূক্ত। সুরা ফাজরে আল্লাহ এই ১০ রাতের শপথ করেছেন। এই দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়। বিশেষ করে ৯ই জিলহজ তথা আরাফাহর দিনের রোজার ফজিলত সম্পর্কে নবীজি (সা.) বলেছেন, এটি বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
৩. আশুরার রোজা
মুহাররম মাসের ১০ তারিখে আশুরার সিয়াম একটি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। এটি পালনের মাধ্যমে আল্লাহ এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেন। মুসা (আ.)-এর বিজয় স্মরণে এই রোজাটি ইসলামে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
৪. শাবানের রোজা
রমজানের ঠিক আগের মাস শাবানে রাসুল (সা.) সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন। এটি ছিল মূলত রমজানের প্রস্তুতিমূলক অনুশীলন। মহান আল্লাহ আমলের ধারা অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন।

