দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ সারা দেশে পালন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে উৎসব, ঈদ মানে আনন্দ। তাই ঈদে হবে ভরপুর খাবার। তবে দীর্ঘ দিন পর হুট করে ভারী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন কেউ কেউ। তা ছাড়া লম্বা ছুটিতে গুরুপাক খাবার খেতে খেতে দীর্ঘমেয়াদি কিছু সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
খাবারজনিত সম্ভাব্য সমস্যা ও সুস্থ থাকার উপায় নিয়ে কথা বলেছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফ হোসেন খান।
সুস্বাদু খাবার ছাড়া কি কোনো উৎসব পূর্ণতা পায়? তাই ঈদের আয়োজনে ঘরে ঘরে সবাই প্রিয়জনদের জন্য সেরা খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করেন। খাবার যতই মুখরোচক হোক, কিছু বিষয়ে সতর্ক না থাকলে সেখান থেকেই দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। তার মতে, এসব খাবার থেকে হতে পারে—
পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অতিরিক্ত গ্যাস
উৎসবের সময় অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়ার পর এমন সমস্যাগুলোই বেশি দেখা যায়। বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার বা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের ফলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। এসব এড়াতে রান্না ও খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি খাবার ও পানীয় গ্রহণের মাঝে অন্তত ২০ মিনিট বিরতি রাখা ভালো।
তবে সমস্যা দেখা দিলে ভারী বা গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সে সময় হালকা তেল ও মসলায় রান্না করা সহজপাচ্য খাবার খাওয়াই উত্তম। ঘরে ভাজা জিরা দিয়ে বানানো পানি বা টক দইয়ের পানীয় আরাম দিতে পারে। প্রয়োজনে খাবারের আধা ঘণ্টা আগে গ্যাসের ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
উৎসবের দিনে পোলাও, মাংস, মিষ্টি ও নানা পানীয়ই বেশি খাওয়া হয়, অন্য খাবার তুলনামূলক কমই থাকে। ফলে শাকসবজি ও ফলের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়ার কারণে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই উৎসবের মেন্যুতে এসব খাবার রাখা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি না খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে, তাই পানি পান করতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে। চাইলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর পানীয়ও রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি সবজির পদ ও ফলের টুকরা দিয়ে তৈরি খাবার রাখুন। মনে রাখবেন, ফলের রস খেলে অন্যান্য পুষ্টি পাওয়া গেলেও আঁশ পাওয়া যায় না।
বমি, পাতলা পায়খানা ও পেটব্যথা
এসময় বমি, ডায়রিয়া বা পেটব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই খাবার প্রস্তুত, পরিবেশন ও খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। হাতের নখ ছোট রাখুন এবং পরিবেশনের পাত্র ও চামচ ভালোভাবে পরিষ্কার রাখুন। দীর্ঘদিন তুলে রাখা বাসন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই পরিষ্কার করে নিন। মাংস ও ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করুন, আধা সেদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন। ভাত বারবার গরম না করাই ভালো।
যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, তারা দুধজাত খাবার খেলে এসব সমস্যায় ভুগতে পারেন। দুধে অ্যালার্জি থাকলে এর সঙ্গে চুলকানি, ফুসকুড়ি, কাশি এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা থাকলে দুধজাত খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। বমি বা ডায়রিয়া হলে ওরস্যালাইন খাওয়া জরুরি। তবে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

