বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের কাছে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৮টা পর্যন্ত দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত ৯টি বগির মধ্যে ৪টি উদ্ধার করে ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৫টি বগি সরানোর কাজ অব্যাহত আছে।
সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের ইনচার্জ খাতিজা খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা কোচগুলো পাবনার ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট কোচগুলো উদ্ধারে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজও এগিয়ে চলছে।
এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার জংশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর আদমদীঘি উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ওই স্থানে রেললাইনের সংস্কার কাজ চলছিল এবং সতর্কতা হিসেবে লাল পতাকা দিয়ে সংকেত দেওয়া ছিল। তবে চালক সেই সংকেত উপেক্ষা করে ট্রেন চালিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ৪টি বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার কারণে উত্তরবঙ্গগামী কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ পদ্ধতি চালু করেছে। এতে যাত্রীরা দুর্ঘটনাস্থলের এক পাশে ট্রেন থেকে নেমে হেঁটে বা অন্য যানবাহনে করে লাইনচ্যুত অংশ পার হয়ে অপর পাশে থাকা ট্রেনে উঠছেন। ফলে মালামালসহ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আক্কেলপুর স্টেশন মাস্টার হাসিবুল হাসান জানান, ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। বাইরে থেকে আগত যাত্রীদের সান্তাহার জংশনে নেমে নিজ দায়িত্বে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ছাতিয়ানগ্রামে গিয়ে পুনরায় ট্রেনে উঠতে হচ্ছে। একইভাবে অন্য দিক থেকে আসা যাত্রীদেরও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে।

