বর্তমান সময়ে ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আর আক্রান্তদের একটি বড় অংশ তরুণ। সেই সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বা মলদ্বারের ক্যানসার একটা ঝুকিতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোলোরেক্টাল ক্যানসারে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রই এখন ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি (এসিএস)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০–৪৯ বছর বয়সী যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের হার প্রতি বছর প্রায় ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সারের হার প্রতি বছর ২.৫ শতাংশ হারে কমছে।
তবে উদ্বেগজনক বিষয় হল, ৫০–৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই ক্যানসারের হারও প্রতি বছর ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা প্রায় নিশ্চিত যে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট কোলোরেক্টাল ক্যানসারে সংক্রান্ত মৃত্যুপ্রায় এক-তৃতীয়াংশ হবে ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষক ড. নিখিতা ওয়াগেল তরুণদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার এই প্রবণতাকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেছেন।
কেন বাড়ছে কোলোরেক্টাল ক্যানসার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোলোরেক্টাল ক্যানসারের কারণের মধ্যে অনেকটাই পরিবেশগত এবং জীবনধারাগত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ধূমপান
- অনিয়মিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
- অ্যালকোহলের অতিরিক্ত ব্যবহার
- শারীরিক অবকাশহীন জীবনধারা
- অতিরিক্ত ওজন
কিছু গবেষক বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব ও কিছু ব্যাকটেরিয়ার (যেমন ই.কোলাই) ক্ষতিকারক টক্সিনও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্যান্সারের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।
লক্ষণ ও সতর্কতা
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের প্রথমে ধরা পড়া কঠিন হতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ অগ্রাহ্য করা উচিত নয়, যেমন:
- পায়খানা বা মল রক্তাক্ত হওয়া
- অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস
- মলদ্বারে অস্বস্তি বা ব্যথা
- পায়খানার ধরণে হঠাৎ পরিবর্তন
- লৌহের অভাবজনিত সমস্যা
প্রতিরোধ ও সচেতনতা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে:
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
- লাল মাংস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিনি কম খাওয়া
- প্রচুর তাজা সবজি ও ফল খাওয়া
- ধূমপান এড়ানো এবং অ্যালকোহল সীমিত ব্যবহার
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করা
বিশেষজ্ঞ নিলেশ ভোরা বলেন, আপনার কোনও উপসর্গ না থাকলেও কোলোরেক্টাল ক্যানসারের জন্য সময়মতো পরীক্ষা করানো জরুরি। এবং যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া উচিত।
যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। এ কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং সময়মতো পরীক্ষা এই তিনটি ধাপ মেনে চললেই কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
সূত্র: হেলথলাইন

