গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজানে মহান রাব্বুল আলামিন মুমিনদের জন্য অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের সুযোগ রেখেছেন। আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম এই মাসে অল্প আমলেই অনেক বেশি সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আবার মহিমান্বিত এই মাসে বান্দা রোজা রাখার ফলে আখিরাতে তা ঢাল হয়ে কাজ করবে। খোদ নবীজি (সা.) বলেছেন- সিয়াম (রোজা) ঢাল স্বরূপ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৫)
অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসেই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন নাজিল করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
এজন্য প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখাকে ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সুরা বাকারা: আয়াত: ১৮৩)
অন্যদিকে মহিমান্বিত এই মাসে শয়তানকে শৃঙ্খলবন্দির পাশাপাশি বান্দার জন্য রহমতের দরজা খুলে দেয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- রমজান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শৃঙ্খলিত (শিকলবন্দি) করে দেয়া হয় শয়তানকে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৭৮)
তবে গুনাহ মাফ ও সওয়াব অর্জনের অফুরন্ত সুযোগ থাকলেও এক শ্রেণির মানুষ রয়েছে, যারা রমজান মাস পেলেও তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তিরমিজির একটি হাদিসে এ বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে। যেখানে খোদ নবীজি (সা.) রমজান পেলেও ওই শ্রেণির মানুষদের জন্য অনিবার্য ধ্বংসের বার্তা দিয়েছেন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার কাছে আমার উল্লেখ করা হলো, অথচ আমার ওপর দরুদ পাঠ করল না। ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যার জীবনে রমজান মাস এল, কিন্তু তাকে ক্ষমাপ্রাপ্ত না করেই (ক্ষমা অর্জন করতে না পেরেই) তা অতিবাহিত হয়ে গেল। ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, যে তার পিতা-মাতাকে (বা তাদের একজনকে) বৃদ্ধাবস্থায় পেল, কিন্তু তাদের খেদমত করার মাধ্যমে সে জান্নাতি হতে পারল না। (মেশকাত, হাদিস: ৯২৭; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৪৫)

