সুইজারল্যান্ডের প্রসিকিউটররা সোমবার জানিয়েছেন, নববর্ষের রাতে একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজন বর্তমান ও সাবেক স্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। এর ফলে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনের পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তর—যেখানে অভিজাত স্কি রিসোর্ট ক্রেন্স মন্তানা অবস্থিত—ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
তবে মামলার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে যে ক্রান্স-মন্টানা পৌরসভার মেয়র নিকোলাস ফেরাউদ সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছেন, যা সুইস গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্রটির তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সাবেক পৌর কাউন্সিলর, এক সাবেক ফায়ার সেফটি কর্মকর্তা ও তার সহকারী, এবং জননিরাপত্তা দলের বর্তমান একজন সদস্যকেও ফৌজদারি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ফলে তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে ১ জানুয়ারি ভোরে শহরের ‘লে কনস্টেলেশন’ বারে।
আগুনে নিহতদের বেশিরভাগই কিশোর-কিশোরী ছিল। এছাড়া আরও ১১৫ জন আহত হন, যাদের অনেকেই এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বর্তমানে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত চলছে।
বারটির মালিক, ফরাসি দম্পতি জেকুইস মোরেত্থি এবং জেসিকা মোরেত্থি অবহেলা ও অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, অবহেলায় শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলার কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।
এছাড়া ক্রান্স-মন্টানার বর্তমান জননিরাপত্তা প্রধান এবং শহরের এক সাবেক ফায়ার সেফটি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।
ভ্যালাইসের প্রসিকিউটররা আগুন লাগার সঠিক কারণ, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব কী ছিল—তা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে লাগানো স্পার্কলার জ্বালিয়ে সেগুলো বারের বেজমেন্টের ছাদের খুব কাছে তোলা হলে সাউন্ড ইনসুলেশন ফোমে আগুন ধরে যায়।
৬ জানুয়ারি পৌরসভা জানায়, ২০১৯ সালের পর থেকে ওই বারে কোনো বার্ষিক নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়নি—এ তথ্য প্রকাশের পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি সূত্র এএফপি-কে জানিয়েছে, তদন্তাধীন পাঁচজন বর্তমান ও সাবেক পৌর কর্মকর্তা এবং জ্যাক মোরেত্তিকে ৭ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রসিকিউটরের দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সুইজারল্যান্ড এবং বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সূত্র: আরব নিউজ

