ইরানের একজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার ঘটনার জবাব দিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এক পাকিস্তানি নাগরিক আদালতে দাবি করেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় ইরানের সঙ্গে কাজ করেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিচার চলাকালে আসিফ মারচেন্ট জুরিদের জানান, ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাকে ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে এই ষড়যন্ত্রে জড়াতে বাধ্য করেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ–এর অভিযোগ, আসিফ মারচেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে লোকজনকে ভাড়া করার চেষ্টা করেছিলেন, ‘যাতে ট্রাম্পসহ একাধিক মার্কিন রাজনীতিবিদকে হত্যা করা যায়। ওয়াশিংটনের নির্দেশে ইরানি শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আইআরজিসি ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে—সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক প্রভাব ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক মিলিয়ে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে মারচেন্ট বলেন, ‘আমি এটা করতে চাইনি। তেহরানে থাকা আমার পরিবারকে রক্ষা করতেই আমাকে এতে জড়াতে হয়েছে।’
তবে প্রসিকিউশন পক্ষ মারচেন্টের ‘চাপের মুখে কাজ করার’ দাবি নাকচ করেছে। বিচারকের কাছে পাঠানো ২০২৪ সালের এক চিঠিতে তারা জানায়, প্রকৃতপক্ষে জবরদস্তি বা হুমকির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মারচেন্টের আইনজীবীরা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। একইভাবে হোয়াইট হাউস থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।
গত সপ্তাহে বিচার শুরু হয়—এর কয়েক দিন পরই ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দেন, যা ইসরায়েল–এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হন।
রোববার এবিসি নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কথিত ষড়যন্ত্রের কারণেই তিনি আগেভাগে হামলার সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষায়, ‘ও আমাকে মারার আগেই আমি তাকে মেরেছি।’
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও এবিসি নিউজ

