বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম এমন কয়েকটি ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেগুলো রাজনৈতিক পটভূমিতে নির্মিত। এর মধ্যে রয়েছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘হক’। এই ছবিগুলো ঘিরে নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। তবে ইয়ামির মতে, শেষ পর্যন্ত একটি ছবির মান নির্ধারিত হয় তার নির্মাণশৈলী দিয়ে, কেবল রাজনৈতিক অবস্থান দিয়ে নয়।
ইয়ামি বলেন, অনেকেই তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছেন, রাজনৈতিক মত যা–ই হোক, ছবিটি যে ভালোভাবে নির্মিত, তা অস্বীকার করা যায় না। বরং এমন ছবি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে—আমরা যা বিশ্বাস করি, তা কি একমাত্র সত্য? নাকি বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়?
ইয়ামির মতে, সিনেমার শক্তি এখানেই। এটি কোনো এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যম নয়; বরং প্রশ্ন তোলার এবং আলোচনার দুয়ার খুলে দেওয়ার শিল্পমাধ্যম।
আলোচনায় ইয়ামি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন, সত্য লুকিয়ে রাখা যায় না। কারণ, ক্যামেরা অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাঁর ভাষায়, ক্যামেরা শুধু একজন অভিনয়শিল্পীর অভিব্যক্তি নয়, লেখকের মনোভাব ও পরিচালকের অভিপ্রায়ও ধরতে পারে।
অর্থাৎ অভিনয় কৃত্রিম হলে বা উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হলে তা পর্দায় ধরা পড়বেই। তাই ইয়ামি বিশ্বাস করেন, সততা নিয়েই কাজ করতে হয়। কারণ, দর্শক শেষ পর্যন্ত আন্তরিকতাই অনুভব করেন।
ভারতের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন ইয়ামি। তাঁর মতে, এটি এক নতুন ভারত, যেখানে আধুনিক সিনেমাও নতুন ভাষা খুঁজে নিচ্ছে। পরিবর্তন শুধু সমাজে নয়, চলচ্চিত্রেও জরুরি। আর সেই পরিবর্তন দৃশ্যমানও হচ্ছে।
এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ইয়ামি দেখছেন নিজের যাত্রাকে। একসময় যেখানে শিল্পীরা ‘তকমা’ নিয়ে সতর্ক থাকতেন, এখন দর্শক ছবিকে তার গুণমান দিয়ে বিচার করছেন। বিষয়বস্তুর গভীরতা, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের সততা—এসবই হয়ে উঠছে আসল মানদণ্ড।
ইয়ামি গৌতমের বক্তব্য থেকে যে বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো আত্মবিশ্বাস। তিনি মনে করেন, শিল্পী হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হোক বা না হোক, যদি গল্পে বিশ্বাস থাকে, চরিত্রে সত্যতা থাকে, তবে কাজের মূল্যায়ন হবেই।

