spot_img

যাদের রোজা-নামাজ এমনকি তওবাও কবুল হয় না

অবশ্যই পরুন

পবিত্র রমজান মাস গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস। মহান রাব্বুল আলামিন মুমিনদের জন্য এ মাসে অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের সুযোগ রেখেছেন। আবার এ মাসে অল্প আমলেই আছে অনেক বেশি ফজিলত। অন্যদিকে মহিমান্বিত এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখাকে ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ (সুরা বাকারা: আয়াত: ১৮৩)

অন্যদিকে ইসলামের প্রধান পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে রোজার পাশাপাশি নামাজও অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।

হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। এমনকি খোদ মহান আল্লাহর কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় আমল। তবে ৬ ধরনের ব্যক্তি আছে, যাদের নামাজ-রোজা মহান বাব্বুল আলামিনের দরবারে কবুল হয় না। এরমধ্যে এক শ্রেণির মানুষ আছে, যাদের তওবাও কবুল হয় না।

মিথ্যা বলা ব্যক্তি

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার (রোজা) পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৮২)

পলাতক গোলাম ও স্বামীর অসন্তুষ্টি নিয়ে রাতযাপন করা নারী

আবু উমামা (রা.) আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ৩ ব্যক্তি এমন যাদের সালাত বা নামাজ তাদের কানও অতিক্রম করে না (কবুল হয় না)। ১. পলাতক গোলাম, যতক্ষণ না ফিরে আসে (মালিকের কাছে)। ২. এমন নারী যে তার স্বামীর অসন্তুষ্টিতে রাত্রিযাপন করে। ৩. এমন ইমাম যাকে মুসল্লিরা অপছন্দ করে। (মেশকাত, হাদিস: ১১২২; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৬০)

মদ পান

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- মদ পানকারী ব্যক্তির ৪০ দিনের নামাজ কবুল করা হয় না। তবে সে তওবা করলে আল্লাহ তা’য়ালা তার তওবা কবুল করেন। এরপর যদি দ্বিতীয়বার সে মদ পান করে তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল করেন না। যদি সে আবারও তওবা করে তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা তার তওবা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তৃতীয়বার যদি সে মদপানে লিপ্ত হয়, তাহলে তার ৪০ দিনের নামাজ আল্লাহ তা’য়ালা কবুল করেন না। তবে যদি সে তওবা করে আল্লাহ তা’আলা তার তওবা কবুল করেন।

তবে চতুর্থবারের মতো যদি ওই ব্যক্তি মদপানে লিপ্ত হয় আল্লাহ তা’য়ালা তার ৪০ দিনের নামাজ গ্রহণ করেন না। আর এরপর যদি সে তওবাও করে আল্লাহ তা’য়ালা তার তওবা ককুল করবেন না এবং তাকে ‘নাহরুল খাবাল’ থেকে পান করাবেন। এ সময় সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সা.) ‘রাদগাতুল খাবাল’ কি? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৩৭৭; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৮৬২)

গণক ও জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া ব্যক্তি

মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না আনাযী (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি আররাফ (গণকের) কাছে গেল এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, ৪০ রাত তার কোনো সালাত (নামাজ) কবুল করা হয় না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬২৭)

সর্বশেষ সংবাদ

১০ হাজার শিক্ষার্থীকে চীনা ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও চীন এর মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও ভাষা সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ