চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার দ্রুত ও গোপনে সম্প্রসারণের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের যেকোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে বেইজিংকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন।
জেনেভায় নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ইয়ো বলেন, সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া নিউ স্টার চুক্তিতে চীনের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘চীন স্বচ্ছতা ছাড়াই এবং কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে তার পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।’
তার দাবি, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ‘সমতা’ অর্জন করতে পারে চীন—যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
ক্রিস্টোফার ইয়ো আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের কাছে এক হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির মতো বিভাজ্য পদার্থ থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র আবারও অভিযোগ করেছে, ২০২০ সালে চীন নিম্নক্ষমতার একটি গোপন পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল এবং আরও বড় ক্ষমতার পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইয়োর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২২ জুন কাজাখস্তানের নিকটবর্তী অঞ্চলে ভূকম্পন তথ্য বিশ্লেষণে ২ দশমিক ৭৫ মাত্রার একটি বিস্ফোরণের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণ হতে পারে। তিনি বলেন, ঐ বিস্ফোরণের সম্ভাব্য ক্ষমতা ছিল প্রায় ১০ টন পারমাণবিক বিস্ফোরণের সমতুল্য।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ ১৯৯২ সালে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অক্টোবরে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবারও পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করতে পারে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ২০২৪ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধেও নিম্নক্ষমতার পরীক্ষার অভিযোগ তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের বিষয়ে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বলেছে, চীনের ঐতিহাসিক পরীক্ষা কেন্দ্র লপ নুর এলাকায় স্যাটেলাইট চিত্রে অস্বাভাবিক কার্যকলাপের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের বৃহৎ পারমাণবিক শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো কার্যকর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি নেই। এতে নতুন করে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আল-আরাবিয়া

