spot_img

বিশ্বের দৃষ্টি এখন ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের দিকে

অবশ্যই পরুন

বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক এমন এক সময়ে ঘোষণা করা হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দিয়েছে। শুক্রবার এক হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ঠিক তার আগেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্কসহ ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধে ব্যবহৃত বহু শুল্ক খারিজ করে দিয়ে তাকে বড় ধাক্কা দেয়।

বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে মূলত বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকার কথা ছিল, যা দুই দেশকে নতুন করে শুল্ক বাড়ানো থেকে বিরত রেখেছিল।

তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর কিছু শুল্ক কমানোর বিনিময়ে বেইজিং থেকে অবৈধ ফেন্টানিল বাণিজ্য দমনে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ স্থগিতের মতো পদক্ষেপ আদায় করেছিলেন।

চীনের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানির ওপর ২০% শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (IEEPA)-এর আওতায়। আদালত রায় দিয়েছে যে ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। এসব শুল্ক ফেন্টানিল বিতরণ ও বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে আরোপ করা হয়েছিল।

তবে সেকশন ৩০১ ও সেকশন ২৩২-এর মতো আইনগত বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের অধীনে আরোপিত অন্যান্য শুল্ক বহাল রয়েছে।

ট্রাম্প ঠিক কতগুলো শুল্ক পুনর্বহাল করবেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ১৫০ দিনের জন্য নতুন করে ১০% বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করবেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ চীন সফর ছিল ২০১৭ সালে, যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ চীন সফর ছিল।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে সফররত বিদেশি নেতাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হবে দারুণ একটা সফর। চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রদর্শন দেখাব আমরা।’

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস সফরের তারিখ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বেইজিং এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সফর নিশ্চিত করেনি।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাত দুর্বল হয়ে পড়ায় বাণিজ্য ঘাটতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের চীন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, বিরল মাটির খনিজ সরবরাহ বন্ধের বেইজিংয়ের হুমকির কারণে ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বাণিজ্য যুদ্ধে ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ছিলেন। আদালতের রায় চীনের দৃষ্টিতে তার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করতে পারে।

তিনি বলেন, চীনা কর্মকর্তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এমন দিকে এগোচ্ছে বলে সন্তুষ্ট, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল, এবং তারা পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হোক তা চায় না।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অক্টোবরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর এটাই হবে দুই নেতার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। সেই বৈঠকে তারা বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিলেন।

যদিও অক্টোবরে তাইওয়ান ইস্যু এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে এই মাসের ফোনালাপে শি জিনপিং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি উত্থাপন করেন।

চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখে, যা তাইপেই প্রত্যাখ্যান করে। যুক্তরাষ্ট্র আইনের বাধ্যবাধকতায় তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহ করে থাকে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তবুও তাইওয়ানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং দ্বীপটির সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী।

ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের জন্য ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যা সম্ভাব্য চীনা হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। তাইওয়ান আরও এমন বিক্রির প্রত্যাশা করছে।

এছাড়া ফেব্রুয়ারির এক ফোনালাপে শি জিনপিং মার্কিন সয়াবিন আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে ট্রাম্প জানান। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা ট্রাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠী, এবং চীন বিশ্বের বৃহত্তম সয়াবিন ভোক্তা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর চীন বড় আকারে সয়াবিন কেনার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যে বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, তা কানাডা থেকে গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে। সমালোচকদের মতে, সব দেশের ওপর সমানভাবে উচ্চ শুল্ক আরোপ করায় বেইজিং কিছুটা চাপমুক্ত হয়েছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল চীন থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রণোদনা কমেছে।

বিশ্লেষক মার্টিন চোরজেম্পা বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় চীনের ওপর আরোপিত শুল্কের জন্য আরও শক্তিশালী ও টেকসই আইনি কাঠামো রয়েছে, ফলে সেগুলো আদালতের রায়ে তুলনামূলকভাবে কম প্রভাবিত হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক সভা

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ