দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার বা ইন্টারনেট প্রতারণা চক্র দমনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলেছে, এসব কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষকে পাচার করে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে, প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে আটকে রাখা ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক গর্ভপাত, অনাহার এবং নির্জন কারাবাসের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, “নির্যাতনের এই চিত্র শুধু স্তম্ভিত করার মতোই নয়, হৃদয়বিদারকও।” তিনি এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত দুর্নীতিবাজ চক্র ও আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারগুলোর প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
এর আগে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ সতর্ক করেছিল, হাজার হাজার মানুষকে প্রতারণা চক্রে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলারের অনলাইন জালিয়াতি পরিচালিত হয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
সংস্থাটি বলেছে, মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং সাইবার প্রতারণা—এই তিনটি অপরাধ এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। আন্তর্জাতিক সমন্বয় ছাড়া এই চক্র দমন সম্ভব নয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

