জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় প্রাণ হারানো শহীদ ফজলে রাব্বি ও শহীদ তানহার বাবার সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রমের আরও একটি দিন অতিবাহিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগের সপক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন দুই শহীদের পিতা। আদালতে বর্ণনা দিতে গিয়ে তারা সন্তান হারানোর সেই নির্মম স্মৃতি ও সেদিনের ভয়াবহতা উল্লেখ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ র্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। এছাড়া গাজীপুর এলাকায় সাতজনকে গুম করার পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের এই বিচারিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকবে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকেও বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সঙ্কেত বা ‘গ্রিন সিগনাল’ পেয়েছেন তারা।
জুলাই-আগস্টের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল বদ্ধপরিকর বলে জানান প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্টরা।

