সুস্থ থাকতে সুষম খাবারের গুরুত্ব সবারই জানা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘বয়সের সঙ্গে শরীরের চাহিদা বদলায়। তাই প্রতিটি জীবনের পর্যায়ে খাদ্যাভ্যাসও পরিবর্তন করা দরকার। গবেষণা দেখিয়েছে, শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত সঠিক পুষ্টি নিলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে।’
শৈশব: মস্তিষ্ক ও শরীর গঠনের সময়
শৈশবে শিশুদের উচ্চ শক্তির প্রয়োজন হয়। এসময় ক্যালসিয়াম, আয়রন, আয়োডিন, ভিটামিন ডি ও অন্যান্য পুষ্টি সবচেয়ে জরুরি। ফল, শাকসবজি, শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজ খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত চিনি এই সময় ক্ষতিকর হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
কিশোর ও ২০-৩০ এর দশক: ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য তৈরি হয়
কিশোর ও তরুণ বয়সে হাড় ও পেশি গঠনের কাজ শেষ হয়। এই সময় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি অপরিহার্য। শাকসবজি, ডাল, বাদাম, জলপাই তেল সমৃদ্ধ ভূমধ্যসাগরীয় খাবার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মধ্যবয়স: হার্ট ও হাড়ের যত্ন
মধ্যবয়সে খাদ্যের লক্ষ্য হওয়া উচিত হৃদরোগ, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো।
নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের সময় হাড় ও পেশি দুর্বল হয়। বিশেষজ্ঞরা ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ, পর্যাপ্ত প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খাওয়ার পরামর্শ দেন।
বার্ধক্য: কম ক্যালোরি, বেশি পুষ্টি
বয়স বাড়লেও পুষ্টির প্রয়োজন কমে না। হাড় ও পেশি দুর্বল হওয়ায় ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও মানসম্মত প্রোটিন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর চর্বি, শস্য ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ জরুরি।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য: দীর্ঘায়ুর চাবিকাঠি
বয়সের সঙ্গে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায়, যা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ফল, শাকসবজি এবং আঁশসমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বদলালে হৃদরোগ, হাড় ক্ষয়, মানসিক সমস্যা এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি কমে। প্রতিটি জীবনপর্যায়ে সঠিক পুষ্টি নিলে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন সম্ভব।

