spot_img

ঝগড়া-ফ্যাসাদ ঈমানের মাধুর্য নষ্ট করে

অবশ্যই পরুন

ইসলাম যে জিনিসগুলোকে খুব অপছন্দ করে তার মধ্যে একটি হলো ঝগড়া ফ্যাসাদ। কারণ এটি ঈমানের মাধুর্য নষ্ট করে। সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। মানুষের ঈমান ও চরিত্রকে কলুষিত করে দেয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাদের ঝগড়াটেদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মানুষের মধ্যে এমনও আছে, যার কথা দুনিয়ার জীবনে তোমাকে অবাক করে এবং সে তার অন্তরে যা রয়েছে, তার উপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখে। আর সে কঠিন ঝগড়াকারী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৪)

এই আয়াতে মূলত মুনাফিক ঝগড়াটেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা ছাড়া এই স্বভাব মুনাফিকদের মধ্যেই বেশি পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি (দোষ) যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে খাঁটি মুনাফিক; আর যার মধ্যে এ দোষগুলির একটি বর্তমান রয়েছে তার ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি স্বভাব থেকে যায়। (১) যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, (২) সে সন্ধি চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে, (৩) সে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং (৪) সে ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৩)

হাদিসে বর্ণিত সব কটি স্বভাবই জগড়াটে মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়। এ জন্যই হয়ত মহানবী (সা.) ঝগড়াটে মানুষদের সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত, যে অতি ঝগড়াটে। (বুখারি, হাদিস : ২৪৫৭)

অনেকে তার সমাজে, এলাকায়, বন্ধুমহল ইত্যাদিতে প্রভাব বিস্তার করতে ঝগড়া বিবাদের পথ বেছে নেয়। এ নিয়ে তাদের অহংকার করতেও দেখা যায়। কেননা তারা মানুষকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়, চাপে রাখে। অন্যান্যরাও তার ঝগড়াটে স্বভাবের কারণে তাকে তোয়াজ করে। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তাকে সম্মানও দেখায়। কিন্তু মূলত মানুষ তার অনিষ্ট থেকে বাঁচতে তাকে ত্যাগ করেছে। এ ধরনের লোকের ব্যাপারে মহানবী (সা.)-এর সুন্দর একটি হাদিস আছে।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইল। তিনি লোকটিকে দেখে বলেন, সে সমাজের নিকৃষ্ট লোক এবং সমাজের দুষ্ট সন্তান। এরপর সে যখন এসে বসল, তখন মহানবী (সা.) তার সামনে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং উদারতার সাথে মেলামেশা করেন। লোকটি চলে গেলে আয়েশা (রা.) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যখন আপনি লোকটিকে দেখলেন, তখন তার সম্পর্কে এরূপ বললেন, পরে তার সাথে আপনি সহাস্যে ও উদারপ্রাণে সাক্ষাত করলেন! তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা। তুমি কখনো আমাকে অশালীন রূপে পেয়েছ? কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে সেই ব্যক্তি, যার বদ স্বভাবের কারণে মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে। (বুখারি, হাদিস : ৬০৩২)

তাই আমাদের উচিত ঝগড়া থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা। এমনকি যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত বিষয়ে ঝগড়া করার ব্যাপারেও ইসলামে অনুত্সাহী করা হয়েছে। মহানবী (সা.) ঝগড়া এড়িয়ে চলা মানুষদের জন্য জান্নাতের বিশেষ উপহারের ঘোষণা দিয়েছেন। আবু উমামাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮০০)

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে চারিত্রিক উত্কর্ষতা দান করুন। আমিন।

সর্বশেষ সংবাদ

রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাক করে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। গত মঙ্গলবার...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ