পাকিস্তান মানেই যে চূড়ান্ত নাটক, সেটাই আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল শনিবার। এদিন কলম্বোতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কার্যত হারতে বসেছিল বাবর আজমের দল।
শনিবার কলম্বোতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১৪৮ রানের তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে দাপট বিশাল দেখাচ্ছিলেন পাক ব্যাটাররা। কিন্তু নিজেদের ভুলেই ম্যাচকে রীতিমতো হার্ট-স্টপার বানিয়ে তোলে পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত ফাহিম আশরাফের ঝোড়ো ইনিংসের ভরসায় অল্পের জন্য রক্ষা পেল তারা। ম্যাচের একটা অংশ জুড়ে মনে হচ্ছিল বিশ্ব ক্রিকেট ফের এক অঘটনের সাক্ষী হতে চলেছে।
এদিন শুরু থেকেই পাকিস্তান যেন নিজেদের মতো করে খেলছিল না। বড় কোনও আইসিসি টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই তারা বোলিংয়ে ছিল চরম শৃঙ্খলাবদ্ধ, ক্যাচ ধরায় ছিল নিখুঁত, এমনকি বাউন্ডারিতেও দেখা গেল না কোনও হাস্যকর ঘটনা, যেটার জন্য তারা মূলত বিখ্যাত।
এদিন মোট ন’টি ক্যাচ নিয়েছে পাকিস্তান। যার মধ্যে বাবর আজমের নেওয়া একটি ক্যাচ ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচের দাবিদার। নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ১১ ওভারে ২ উইকেটে ৯৮ রান তুলে পাকিস্তান কার্যত জয়ের পথে হেঁটেই যাচ্ছিল।
কিন্তু হাজার হলেও দেশটার নাম তো পাকিস্তানই। রাতারাতি তো তারা আর পাল্টে যেতে পারে না। বড় মঞ্চে, তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাটক না করলে তাদের গল্পই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
১০ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে আচমকাই থমকে যায় রান তোলার গতি। এই সময়ে মাত্র ২১ রান করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় আঘা সলমনের দল। টানা ২৯ বল কোনও বাউন্ডারি না আসায় চাপ বাড়তে থাকে।
পাকিস্তানের ধসের শুরুটা হয় ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের আউট হওয়ার পর থেকে। ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ডাচদের হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নেওয়ার পথে ছিলেন তিনি। ৪৭ বলে ৩১ রান করেন ফারহান।
কিন্তু পল ফান মিকেরেনের একটি নিখুঁত বাউন্সারে আউট হন তিনি। তবু তখনও বড় বিপদের আভাস ছিল না। পাকিস্তান তখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই মনে হচ্ছিল।
এরপর যা হল, তা পাকিস্তানি ক্রিকেটের চেনা চিত্র। একের পর এক মিডল অর্ডার ব্যাটাররা ফিরলেন। শাদাব খান এবং মহম্মদ নওয়াজ ফিরতেই মনে হচ্ছিল ম্যাচ জিতবে নেদারল্যান্ডসই।
শেষ পর্যন্ত সেই নাটকীয় আবহেই অল্প ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল তারা, তাও শুধুমাত্র ফাহিম আশরাফের ঝোড়ো ইনিংসের সৌজন্যে। নয়তো, বিশ্বকাপ শুরুর আগে পাকিস্তানের সমস্ত বাতেলাবাজি বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল প্রথম ম্যাচেই।

