ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে ওমানে মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আলোচনার আবহেই মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার সকালে ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এই সাক্ষাৎ গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সংলাপ।
সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের কাছাকাছি বিশাল নৌবহর বা ‘আর্মাডা’ মোতায়েন করেছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সই না করলে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আলোচনার ঠিক আগে ইরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস মার্কিন নাগরিকদের ‘এখনই ইরান ছাড়ার’ জরুরি নির্দেশ জারি করে, যা সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওয়াশিংটনের দাবি করছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’ নিশ্চিত করতে চায়। পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের পাশাপাশি তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং হামাস-হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীকে সমর্থনের বিষয়গুলোও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’র বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, চীন ওয়াশিংটনের ‘একতরফা গুন্ডামি’র বিরোধিতা করে তেহরানের পাশে দাঁড়িয়েছে।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জনে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের হাতে ‘সব বিকল্প খোলা আছে’।

