কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নতুন করে ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বিশাল নথি প্রকাশ করেছে। এই নথিতে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিক, রাজপরিবার, বিজ্ঞানী এবং তারকাদের নাম নতুন করে আলোচনায় আসার পাশাপাশি এপস্টেইনের আয়ের উৎস ও নেপথ্য শক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে মার্কিন ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের একটি দাবি এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কার্লসন দাবি করেছেন, এপস্টেইন মূলত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর হয়ে কাজ করতেন।
কার্লসনের মতে, এপস্টেইন কোনো ব্যক্তিগত অপরাধী ছিলেন না; বরং তিনি একটি বিদেশি শক্তির হয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করতেন। ওয়াশিংটনের প্রভাবশালী মহলের প্রায় সবাই মনে করেন তিনি মোসাদের চর ছিলেন।
নথিতে দেখা গেছে, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ বার এপস্টেইনের বাড়িতে যাতায়াত করেছেন। কার্লসন প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাথে এই অপরাধীর এত ঘনিষ্ঠতার কারণ কী।
কার্লসন আরও দাবি করেন, যেসব মার্কিন নাগরিক ইসরায়েল (আইডিএফ) বা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে কাজ করেন, তাদের মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া উচিত। কারণ হিসেবে তিনি ‘একই সাথে দুই প্রভুর সেবা করা অসম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন।
এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নথিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি দাবি করেছে যে, এপস্টেইনের কোনো সুনির্দিষ্ট ‘ক্লায়েন্ট লিস্ট’ নেই, যা নিয়ে ট্রাম্পপন্থী রক্ষণশীলদের মধ্যেই গভীর ক্ষোভ ও তথ্য গোপনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা করলেও, তাঁর বিশাল সম্পদ ও প্রভাবের নেপথ্যে কোনো শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থার হাত ছিল কি না—সেই প্রশ্নটি এখন মার্কিন রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে।

