পাকিস্তানের অস্থির প্রদেশ বেলুচিস্তানে তিন দিনব্যাপী চলমান সামরিক অভিযানে অন্তত ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও শুদ্ধি অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন ২২ জন পাকিস্তানি সেনা এবং ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে।
গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান জুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ) একযোগে ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায়। এই সমন্বিত হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পুরো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, অভিযানে ১৯৭ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে শিশু ও নারীসহ ৩৬ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কোয়েটা, গোয়াদার, মাস্তুং, নুশকি, খারান এবং পাসনিসহ প্রদেশের অন্তত নয়টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এই লড়াই ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, এই হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের বাইরে থেকে। আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিদেশি মদদপুষ্ট হয়ে বেলুচিস্তানের উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে নারী ও শিশুদের ওপরও বর্বরতা চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিএলএ বেলুচিস্তানে কর্মরত অন্যান্য প্রদেশের শ্রমিক ও বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর আক্রমণ বৃদ্ধি করেছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই গোষ্ঠীকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে থাকে, যদিও ভারত এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

