যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’। আর মুক্তির আগেই তথ্যচিত্রটিকে ঘিরে ছিল সন্দেহ, বিদ্রুপ আর ব্যর্থতার পূর্বাভাস। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়বে। কিন্তু মুক্তির পর ছবিটি যেন উল্টো গল্প লিখতে শুরু করেছে। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে প্রত্যাশার চেয়েও শক্ত অবস্থান নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই বিতর্কিত তথ্যচিত্র।
প্রাথমিক হিসাব বলছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মুক্তির পরই তথ্যচিত্রটি প্রথম সপ্তাহেই ৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করতে পারে। এই গতি অব্যাহত থাকলে বক্স অফিস তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে ‘মেলানিয়া’র যা আগে খুব কম মানুষই কল্পনা করেছিলেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘মেলানিয়া’র প্রিমিয়ার আয়োজন করা হয় শুক্রবার রাতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রিমিয়ারের পর থেকেই টিকিট বিক্রিতে নতুন গতি আসে বলে জানিয়েছেন প্রদর্শকেরা। বক্স অফিস পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে শীর্ষে থাকতে পারে দুটি নতুন সিনেমা ‘সেন্ড হেল্প’ এবং ইউটিউবার মার্ক ফিশবাখ অভিনীত ‘আয়রন লাং’। এর ফলে পেছনে পড়তে পারে জেসন স্ট্যাথামের নতুন অ্যাকশন ছবি ‘শেল্টার’। এমন ফলাফল হলে তা নিঃসন্দেহে বক্স অফিস বিশ্লেষকদের জন্য বড় চমক হবে।
তবে ‘মেলানিয়া’কে বুঝতে হলে শুধু আয় নয়, এর পেছনের প্রেক্ষাপটটিও জানা জরুরি। এটি পরিচালনা করেছেন বিতর্কিত নির্মাতা ব্রেট র্যাটনার, যিনি এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর হলিউডে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। আর তথ্যচিত্রটির স্বত্ব কিনতে অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস খরচ করেছে ৪০ মিলিয়ন ডলার যা একে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল তথ্যচিত্রে পরিণত করেছে।
শুধু নির্মাণ ব্যয়েই থেমে থাকেনি অ্যামাজন। বৈশ্বিক বিপণন ও প্রচারণায় খরচ করা হয়েছে আরও ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার। সাধারণত তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রে এমন বিশাল প্রচারণা বাজেট বিরল। অতীতে কেবল আল গোরের ‘অ্যান ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ’ ও মাইকেল মুরের ‘ফারেনহাইট ৯/১১’–এর মতো সিনেমাই এই ব্যতিক্রম দেখিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ১ হাজার ৭৭৮টি প্রেক্ষাগৃহ থেকে তথ্যচিত্রটি সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। এমনকি টিকিট বিক্রির ধীরগতির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় অনেক হল মালিক পূর্বাভাস নামিয়ে আনেন ২ থেকে ৪ মিলিয়ন ডলারে। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় সব বড় স্টুডিওই এখন দেখছে ‘মেলানিয়া’ ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলারের পথেই এগোচ্ছে।
তথ্যচিত্রর পেছনে রাজনৈতিক প্রচারণার ভূমিকা যে আছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তার সমর্থকদের তথ্যচিত্রটি দেখার আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারণা বিশেষ করে রিপাবলিকান–ঘেঁষা অঙ্গরাজ্যগুলোতে দর্শক টানতে সহায়তা করছে। তবে সমালোচকদের কাছ থেকে তথ্যচিত্রটি কোনও ছাড় পাচ্ছে না। প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত রিভিউগুলো বেশ কঠোর ও নেতিবাচক। কিন্তু বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প–সমর্থকেরা এসব সমালোচনাকে ‘বামঘেঁষা মিডিয়ার পক্ষপাত’ হিসেবেই দেখছেন যা উল্টো দর্শক আগ্রহ বাড়াচ্ছে।
সূত্র: হলিউড রিপোর্টার

