যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন–পীড়নের মুখে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, তারা এখনো হাজার হাজার সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামী প্রজাতন্ত্রবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে গত ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক রাজপথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, কর্তৃপক্ষ নজিরবিহীন দমননীতি গ্রহণ করে সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। বর্তমানে আন্দোলন আপাতত স্তিমিত হয়ে এসেছে।
নিহতের সংখ্যা পর্যবেক্ষণকারী এনজিওগুলো বলছে, ১৮ দিন ধরে চলা ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য সংগ্রহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, নিশ্চিত সংখ্যাগুলো প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় অনেক কম।
সংগঠনটি আরও জানায়, তারা এখনো ১৭ হাজার ৯১টি সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন রেখেছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে (এইচআরএএনএ)।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস নিশ্চিত করেছে, ইন্টারনেট শাটডাউন এখনো বহাল রয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই অবস্থা ‘নাগরিকদের বিরুদ্ধে চালানো প্রাণঘাতী দমন অভিযানের প্রকৃত মাত্রা আড়াল করছে।’
নেটব্লকস আরও জানায়, ‘সেন্সরশিপ আরও কড়াকড়ি করা হচ্ছে, যাতে বিকল্প পথে তথ্য আদান–প্রদান ঠেকানো যায়। আর একই সঙ্গে রাষ্ট্র অনুমোদিত অ্যাকাউন্টগুলো ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বয়ান প্রচার করছে।’
গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো ইরানের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে নিহতদের একটি সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করে। দেশটির শহীদ ও ভেটেরান ফাউন্ডেশন জানায়, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের বাইরে পরিচালিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল সপ্তাহান্তে দাবি করেছে, ৮ ও ৯ জানুয়ারি মাত্র দুই দিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬,৫০০-এর বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিবেদন, নথি ও সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানালেও তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরেক মানবাধিকার সংস্থা নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নথিভুক্ত করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪

