ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের আকাশসীমা, জলসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আমিরাত কেবল সরাসরি হামলাই নয়, বরং ইরানে কোনো সম্ভাব্য অভিযানে লজিস্টিক বা কৌশলগত সহায়তা দিতেও রাজি নয়। আবুধাবি মনে করে, বর্তমান সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি নয়, বরং সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানোই সর্বোত্তম পথ।
উল্লেখ্য, আবুধাবির কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটনের সাথে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আমিরাতের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এদিকে, ইরানে চলমান অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে দেশটিতে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের বিকল্প খোলা রাখার হুমকি দিয়ে একটি নৌবহর পারস্য উপসাগরের দিকে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পরই আমিরাত নিজেদের এই নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা জানাল।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর বর্তমান ইরানি নেতৃত্ব সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও তারা এখনো ক্ষমতা ধরে রেখেছে। তবে সংকটের এই মুহূর্তে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সামরিক সহযোগিতা না পাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

