ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটিতে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যর্থ ও নিষ্ফল অভিযানেরই ধারাবাহিকতা।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তিনি বলেন, অস্থিরতার প্রতিবাদে রাস্তায় নামা লাখ লাখ ইরানির ঐতিহাসিক উপস্থিতি দেশটির শত্রুদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণের ঐক্যই বিদেশি ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
পেজেশকিয়ান আরও জানান, ইরান নতুন উদ্যমে তার পথচলা অব্যাহত রাখবে এবং প্রতিবেশী ও ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি। আলোচনায় চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইরানে সাম্প্রতিক বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গা প্রসঙ্গ উঠে আসে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পাকিস্তানের আমাদের ইমানি ভাইদের কার্যকর উপস্থিতি ও ভূমিকা এবং ইরাক, কাতার, তুরস্ক থেকে সৌদি আরব পর্যন্ত অন্যান্য মুসলিম ভাইদের সহযোগিতা ইসলামী জাতির শত্রুদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টা নিষ্ক্রিয় করবে।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সব গোষ্ঠী, দল, জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মধ্যে সংহতি, সহমর্মিতা ও ঐক্য গড়ে তোলা; পাশাপাশি প্রতিবেশী ও ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা।
অন্যদিকে, পাক প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হওয়ায় ইরান পাকিস্তানের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে শুধু প্রতিবেশীই নয়, বরং অঞ্চল ও বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশ।’
সূত্র: প্রেস টিভি

