গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং ডেনমার্কের পাল্টা সেনা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তর আমেরিকার যৌথ সামরিক কমান্ড ‘নোরাড’ গ্রিনল্যান্ডে তাদের যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ সামরিক সংস্থা নোরাড জানিয়েছে, তাদের বিমান গ্রিনল্যান্ডের ‘পিটুফিক স্পেস বেস’-এ পৌঁছাবে। সংস্থাটি একে নিয়মিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ বললেও, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির মুখে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডেনমার্ক ইতিমধ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ডেনিশ রয়্যাল আর্মির প্রধান পিটার বয়েসেনের নেতৃত্বে ৫৮ জন সেনা গ্রিনল্যান্ডের কাংগারলুসুয়াকে পৌঁছেছেন। বর্তমানে সেখানে ‘অপারেশন আর্কটিক এন্ডিউরেন্স’ নামে একটি বহুজাতিক সামরিক মহড়া চলছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে ‘এভাবে না হলে অন্যভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেননি, বরং এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, যারা গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে তার বিরোধিতা করবে, তাদের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনকি নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় এখন আর শুধু ‘শান্তির কথা’ ভাবছেন না বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
নোরাড কী?
এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একটি যৌথ কমান্ড, যা ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কাজ হলো উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা এবং মহাকাশকে যে কোনো সম্ভাব্য আক্রমণ (ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান) থেকে রক্ষা করা।

