উত্থান-পতন, বিতর্ক-আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষের পথে বিপিএল। ছয় দলের ঘরোয়া টি২০ আসরে শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে চার দল। যেখানে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ছয়টায় ‘কোয়ালিফায়ার-১’ ম্যাচে লড়বে নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও শেখ মেহেদির চট্টগ্রাম রয়্যালস। জিতলেই মিলবে ফাইনালের টিকিট। হেরে গেলেও সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে বুধবার ‘কোয়ালিফায়ার-২’ ম্যাচে আজকের এলিমিনেটরে জয়ী দলের মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
আজ দুপুরে ‘ডু অর ডাই’ এলিমিনেটর ম্যাচে লড়বে টেবিলের তিনে থাকা লিটন দাসের রংপুর রাইডার্স ও চার নম্বর দল মেহেদি হাসান মিরাজের সিলেট টাইটান্স। ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে লিগ পর্ব শেষ করেছে রাজশাহী। সমান ৬টি করে জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে দুইয়ে চট্টগ্রাম, তিনে রংপুর। ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চারে সিলেট। ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাদ পড়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। মাত্র ২ জয়ে তাদের সঙ্গী হয়েছে নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেস। শান্তর নেতৃত্বে এবারের বিপিএলে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে রাজশাহী। ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করছেন তানজিদ তামিম, রিপন ম-লরা। শেষদিকে নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার জিমি নিশামকে দলে ভিড়িয়ে শক্তি বাড়িয়েছে তারা। ভারতের মাটিতে কিউইদের ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে সেরা চারেও তাকে পেতে মরিয়া ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি,‘আমরা অনুরোধ করার পর নিশাম নিজে থেকেই আগ্রহ দেখান।
নিজ দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে এনওসি (অনাপত্তিপত্র) জোগাড় করার পুরো কৃতিত্বই নিশামের।’ বলছিলেন কোচ হান্নান সরকার। তিনি আরও বলেন, ‘বিপিএল নিয়ে যখন নেতিবাচক আলোচনাও থাকে তখন নিশামের মতো একজন তারকা খেলোয়াড় নিজের দেশের খেলা ছেড়ে এখানে থেকে যাওয়া আমাদের সবার জন্যই সম্মানের।’ নিশাম কোচকে কথা দিয়েছেন, রাজশাহী ফাইনালে উঠলে শিরোপা জয়ের লড়াই শেষ করেই তিনি ভারত সফরের উদ্দেশে রওনা হবেন।
মিরপুরে সোমবার প্রস্তুতি শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে তারকা অলাউন্ডার যোগ করেন,‘হ্যাঁ, আমরা যেভাবে খেলছি, তা নিয়ে আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী। অবশ্যই যে কোনো টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রথম লক্ষ্য থাকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা। তো হ্যাঁ, আমরা সেই প্রথম লক্ষ্যটা পূরণ করতে পেরেছি এবং এর মাধ্যমে ফাইনালে ওঠার পথে একটা দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার অধিকারও অর্জন করেছি, যদি প্রথম ম্যাচে হেরে যাই।’
এদিকে মিরাজের সিলেট শেষদিকে এসে কঠিন লড়াইয়ের আগে ক্রিস ওকস, মঈন আলী, স্যাম বিলিংস- তিন তারকার উপস্থিতিতে অনুশীলন ক্যাম্প যেন পরিণত হয়েছে ছোটখাটো ইংল্যান্ড দলে। সকালেই একাডেমি মাঠে নামেন সিলেটের ক্রিকেটাররা। আলাদা নজর কাড়েন সদ্য দলে যোগ দেওয়া ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। ফিটনেস ড্রিলের পর ব্যাট ও বল হাতে পুরোদমে অনুশীলনে মগ্ন থাকতে দেখা যায় তাকে। তার সঙ্গে ছিলেন অভিজ্ঞ মঈন আলী, যিনি নেট বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং অনুশীলনেও বেশ সময় দেন। মঈনকে অবশ্য কোচের ভূমিকাতেই দেখা যায় বেশি।
কখনো মিরাজ কখনো বা নাসুম আহমেদকে শিখিয়েছে বলের ঘূর্ণি। মনোযোগ দিয়ে বোলিংও দেখছেন কতটা তালিম নিতে পেরেছেন তারা। কোচিং স্টাফের তত্ত্বাবধানে পুরো সেশনজুড়ে ছিল ফিল্ডিং ড্রিল, ক্যাচিং অনুশীলন ও ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রস্তুতি। বিশেষ করে ইংলিশ ক্রিকেটারদের মধ্যে সমন্বয় ও বোঝাপড়া বাড়ানোর দিকে জোর দিতে দেখা গেছে ম্যানেজমেন্টকে। ইতোমধ্যেই ওকস ও মঈনের অভিজ্ঞতা সিলেটের শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্লে-অফের আগে এমন পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত অনুশীলন টাইটান্সের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সবমিলিয়ে, সকাল থেকেই মিরপুরের একাডেমি মাঠে সিলেটের এই ইংলিশ তারকাদের ব্যস্ততা স্পষ্ট বার্তাই দিচ্ছে প্লে-অফে নামার আগে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তারা।

