spot_img

সৌদি আরব এখন বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার: ইইউ

অবশ্যই পরুন

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির ভাইস-চেয়ার হানা জালুল মুরো সৌদি আরবকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য একটি ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন।

তিনি সৌদি আরবকে একটি ‘মূল আন্তর্জাতিক শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা, ফিলিস্তিনে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং লেবানন ও সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রে স্থিতিশীল সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।

আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুরো বলেন,‘সৌদি আরব একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার, কারণ ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে মাত্র গত পাঁচ-ছয় বছরে দেশটি অসাধারণ পরিবর্তন দেখিয়েছে। এখানে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ব্যাপক, যুব বেকারত্বের হার খুবই কম এবং অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।’

রিয়াদে অনুষ্ঠিত ফিউচার মিনারেলস ফোরামের ফাঁকে তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠছে — ইউক্রেন নিয়ে শান্তি আলোচনা, সিরীয় সরকারকে সমর্থন, সিরিয়ার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, লেবাননের সরকারকে স্থিতিশীল করা, গাজা ও ফিলিস্তিনে শান্তি প্রচেষ্টা এবং যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই।

‘তাই আমার মতে, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শক্তি এবং এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য,’তিনি যোগ করেন।

কেন তিনি সৌদি আরবকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার মনে করেন, তা ব্যাখ্যা করে মুরো বলেন: ‘এটি এমন একটি দেশ, যা পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকেই সমানভাবে তাকাতে জানে।’

মুরো ইউরোপীয় পার্লামেন্টে সৌদি আরববিষয়ক র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই ভূমিকায় তিনি আইনগত ও বাজেটসংক্রান্ত প্রস্তাবসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইইউ–সৌদি সম্পর্ককে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার একটি রোডম্যাপ অনুমোদন করে। ইইউতে সৌদি রাষ্ট্রদূত হাইফা আল-জেদেয়া একে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রতিবেদনটিতে সৌদি আরব ও ইইউর মধ্যে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয় এবং নতুন ইইউ ভিসা কৌশলের আওতায় পাঁচটি জিসিসি দেশের জন্য নিরাপদ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক ভিসামুক্ত ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মুরো বলেন,‘ভিসা অব্যাহতি সৌদি আরবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়, যা আমি সবসময় সমর্থন করি। সৌদি আরব, আপনারা জানেন, পাঁচ বছর ধরে ‘ক্যাসকেড’ তালিকায় রয়েছে এবং আমাদের ভিসা অব্যাহতির দিকে এগোতে হবে।’

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করে যে সৌদি পর্যটকরা ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনীতিতে—বিশেষ করে আতিথেয়তা, খুচরা ও সাংস্কৃতিক খাতে—গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একই সঙ্গে এতে বলা হয়, সৌদি নাগরিকরা অবৈধ অভিবাসনের কোনো চাপ সৃষ্টি করেন না।

ভিসা অব্যাহতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুরো বলেন: ‘এই অনুমোদন আসলে কমিশনের প্রতি একটি সুপারিশ—এর গুরুত্ব বিবেচনায় নেওয়ার জন্য। আমাদের এ বিষয়ে এগোতে হবে, কারণ আমরা একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব কাঠামোর মধ্যে আছি, যা বহু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই ভিসা অব্যাহতি একটি কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’

তিনি আরও বলেন: ‘এখন আমরা সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক ভূমিকা এবং একজন প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের জন্য এর গুরুত্ব স্বীকার করি—শুধু নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও জ্বালানির জন্য নয়, সব দিক থেকেই। আমাদের জিসিসির মতো অংশীদারদের, বিশেষ করে সৌদি আরবের, আরও কাছাকাছি আসতে হবে।

‘এবং আমার মনে হয়, আমাদের সৌদি আরবকে আমাদের একজন বড় মিত্র হিসেবে দেখতে হবে,’ বলেন মুরো।

রিয়াদে অবস্থানকালে মুরো ফোরামে ইইউ–কেএসএ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংলাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ভ্যালু চেইন অগ্রগতিবিষয়ক একটি প্যানেলে অংশ নেন।

ফোরামের ফাঁকে তিনি সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খেরেইজির সঙ্গে সৌদি–ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া তিনি সৌদি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন হালা আল-তুয়াইজরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বলেন, আমি আপনাকে, সরকারকে এবং আপনার দেশকে চমৎকার কাজ করার জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই।’

সূত্র: আরব নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট হচ্ছে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য। দেশ পরিবর্তনের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ