ইউক্রেনের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ২ লাখ সেনা অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এছাড়া সামরিক পরিষেবা এড়ানোর চেষ্টা করছেন প্রায় ২০ লাখ ইউক্রেনীয়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পার্লামেন্টে এ তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
ফেদোরভ বলেন, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই প্রবল চাপের মধ্যে রয়েছে। অনেক বড় ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে সেনাদের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্মুখসারিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন, যেখানে সংখ্যাগত ও অস্ত্রগত দুর্বলতা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছে কিয়েভের বাহিনীকে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়া ও ব্যাপক পলায়নের গুঞ্জন দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। তবে ফেদোরভের এই বক্তব্যই প্রথম, যেখানে কোনো ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা প্রকাশ্যে এর প্রকৃত মাত্রা তুলে ধরলেন।
ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে নিবন্ধন করতে হয় এবং সব সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হয়। যদিও ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীরা মূলত বাধ্যতামূলক সেনা সমাবেশের আওতায় পড়েন।
মার্শাল ল’র অধীনে সামরিক দায়িত্বে উপযুক্ত ২৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দেশত্যাগ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে অবৈধভাবে দেশ ছাড়ছেন বহু মানুষ। বুধবার ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশের সেনা ব্যবস্থাপনায় ‘ব্যাপক পরিবর্তন’ আনা প্রয়োজন।
মিখাইলো ফেদোরভ ইউক্রেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে তার বয়স হবে ৩৫ বছর। তিনি ডেনিস শ্যামিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। শ্যামিহাল বর্তমানে ইউক্রেনের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে ফেদোরভ উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ইউক্রেনের সফল ড্রোন যুদ্ধ কর্মসূচিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প তদারকি করেন। বুধবারের বক্তব্যে তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে সামরিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘আরও বেশি রোবট মানে কম ক্ষয়ক্ষতি, আরও বেশি প্রযুক্তি মানে কম মৃত্যু। ইউক্রেনের বীর সেনাদের জীবনই আমাদের কাছে সর্বোচ্চ মূল্যবান।’ ফেদোরভ জানান, বর্তমানে ইউক্রেনে প্রায় ৫০০টি কোম্পানি ড্রোন উৎপাদন করছে, ২০০টি প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক জ্যামিং সরঞ্জাম তৈরি করছে এবং ২০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে যুক্ত রয়েছে।

