বিক্ষোভের মধ্যে বড় ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিক্ষোভকে জনগণের বৈধ অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল শাসনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহিংস দাঙ্গাকারীদের থেকে সাধারণ জনগণকে নিজেদের পথ আলাদা রাখতে হবে। রোববার (১১ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জনগণের জীবন-জীবিকার সমস্যাগুলো সমাধানে তার প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দেশটির প্রেসিডেন্ট জানান, ‘লিঙ্গ, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে সব ইরানি নাগরিকের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভর্তুকির ন্যায্য বণ্টন করাই সরকারের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও বাজারের (বাজার) ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের পর তাদের অভিযোগ সরকারের কানে পৌঁছেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রশাসনের বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের সমস্যা তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা সব ধরনের উপায়ে তাদের সমস্যার সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে কারণেই প্রতিদিন তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুপক্ষ এখন অর্থনৈতিক সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
তিনি দুর্নীতি নির্মূলে জনগণ, পেশাজীবী সংগঠন, শিল্প মালিক ও অর্থনৈতিক কর্মীদের সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ জনগণের অধিকার হলেও, জনসম্পদে হামলা, মসজিদে অগ্নিসংযোগ এবং কোরআন শরিফ পোড়ানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। তার ভাষায়, এরা বিশ্বে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করেছে।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ইরানের শত্রুরা দেশ ও দেশের বাইরে কিছু বহিরাগতদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের ইরানে পাঠিয়েছে—যারা মসজিদে অগ্নিসংযোগ, বাজারের দোকান পুড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত।
তার দাবি, দাঙ্গাকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে মানুষ হত্যা করেছে, কয়েকজনের শিরশ্ছেদ করেছে এবং এমনকি কিছু মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘এরা সাধারণ মানুষ নয় এবং ইরানের নাগরিকও নয়।’
দেশে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা ও দাঙ্গা সৃষ্টির মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির শত্রুদের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, কোরআন পোড়ানোর মতো ঘৃণাত্মক কর্মকাণ্ড ইরানি সভ্যতার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আশ্বাস দেন, সব প্রতিকূলতার মধ্যেও তার সরকার সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করছে এবং ইরান এই সংকট কাটিয়ে উঠবে।
পেজেশকিয়ান জনগণকে প্রতিটি পাড়ায় সংগঠিত হয়ে দাঙ্গাকারীদের অপরাধ প্রতিরোধের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘দাঙ্গা ও অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তারা ইরানকে হাঁটু গেড়ে বসাতে চায়।’
এছাড়া তিনি সহিংস দাঙ্গার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে সোমবার অনুষ্ঠিতব্য সরকারপন্থী সমাবেশে অংশ নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, যারা মানুষ হত্যা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

