পেয়ারা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি জনপ্রিয় ফল। টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফল কাঁচা খাওয়া ছাড়াও জুস, জ্যাম ও স্মুদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হজমে সহায়তা—পেয়ারা একটি ‘সুপারফ্রুট’ হিসেবেই পরিচিত। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, পেয়ারা খোসাসহ খাওয়া নিরাপদ নাকি খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াই ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে পটাসিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি–এর মতো অতিরিক্ত মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়, যা ত্বক ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে সবার জন্য খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া নিরাপদ নয়।
বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের জন্য খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে কিছু ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা ও লিপিড প্রোফাইলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই যাদের রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য খোসা ছাড়িয়ে পেয়ারা খাওয়াই তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
পেয়ারা ভিটামিন সি–এর অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা দৈনিক প্রয়োজনের চেয়েও বেশি ভিটামিন সি সরবরাহ করতে পারে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে ও সর্দি-কাশি কমাতে সহায়ক।
হজমশক্তি উন্নত করে
উচ্চ ফাইবারযুক্ত পেয়ারা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। খোসা ছাড়া পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
ত্বকের যত্নে কার্যকর
পেয়ারায় থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন এ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের বার্ধক্য কমাতে ও প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
হৃদযন্ত্রের সুস্থতায় সহায়ক
পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ পেয়ারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পেয়ারা একটি অত্যন্ত উপকারী ফল হলেও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে খোসাসহ বা খোসা ছাড়া খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল সমস্যায় ভুগছেন যারা, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

