spot_img

৩৭ লাখ টাকাসহ আটক এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবশ্যই পরুন

নাটোরে পুলিশি তল্লাশিতে একটি প্রাইভেট কার থেকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা উদ্ধার ও জব্দের ঘটনায় গাইবান্ধার তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলার আরও দুই আসামি হলেন, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের রেন্ট এ-কার ব্যবসায়ী বাপ্পী কুমার দাস ও তার ছেলে বিন্তু কুমার দাস। বিন্তু কুমার দাস রাজশাহীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন তারা প্রাইভেট কারযোগে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।

দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে আসামি মো. ছাবিউল ইসলাম (৪৩) বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সদর দফতরে কর্মরত। তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর গাইবান্ধায় নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন নিজের ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকাসহ আটক হন। জব্দকৃত অর্থের আসল উৎস ও মালিকানা গোপন বা ছদ্মাবৃত করার অসৎ উদ্দেশ্যে গাড়িযোগে অন্যত্র স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করেন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য তার গাড়িচালক বাপ্পি কুমার দাসকেও (৫০) মামলার আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল গেট এলাকায় নাটোর–বগুড়া মহাসড়কে যানবাহন তল্লাশিকালে পুলিশ মো. ছাবিউল ইসলামকে বহনকারী একটি প্রাইভেট কার থেকে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে দুদক আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে।

দুদকের অনুসন্ধানে উদ্ধারকৃত অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন এবং জব্দকৃত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার আদেশ দেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন।

ঘটনার পর রাতভর সিংড়া থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকার পর তদন্তকারী কর্মকর্তার তলবে হাজির হওয়ার শর্তে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে মুক্তি পান মো. ছাবিউল ইসলাম। এরপর এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি এলজিইডির সদর দফতরে আগারগাঁওয়ে কর্মরত রয়েছেন।

জব্দকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন ছাবিউল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ওই টাকা জমি বিক্রির অর্থ এবং তা রাজশাহীতে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।

ছাবিউল ইসলামের পৈত্রিক বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায় হলেও তিনি নিয়মিত রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভাটোপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সোমবার রাতে বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সংবাদ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গবেষণায় স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউশন গঠনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণকে প্রাতিষ্ঠানিক ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একটি স্বতন্ত্র...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ