ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বৈশ্বিক পরাশক্তি এই দেশটি মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ‘অবিলম্বে’ মুক্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি বিষয়টি অবিলম্বে সমাধান না হলে আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর নিউইয়র্কের একটি আটক কেন্দ্রে বন্দি আছেন। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মাদুরো ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে। ভেনেজুয়েলার সরকারকে উৎখাতের যেকোনও প্রচেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং সমস্যার সমাধান করতে হবে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে।’
এর আগে চীন বলেছিল, একটি সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগে তারা ‘গভীরভাবে বিস্মিত’। একইসঙ্গে এই ঘটনার ‘তীব্র নিন্দাও’ জানায় বেইজিং।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার পরদিন ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট ছিল ফাঁকা দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বাজার, শপিংমলসহ যেসব এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা যেত, সেসব এলাকায় এখন শুনশান নিরবতা বিরাজ করছে।
তবে কিছু কিছু এলাকায় ফার্মেসি ও সুপারশপ খুলতে দেখা গেছে। সেখানে অনেকেই ছুঁটে যাচ্ছেন, প্রয়োজনীয় কেনা-কাটা সারছেন। তবে তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রেসিডেন্ট মাদুরোর মুক্তির দাবিতে তার সমর্থকদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র তুলে নিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেশটির আদালত এই নির্দেশনা দিয়েছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন অভিযানে বন্দি হওয়ার পর শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে হেলিকপ্টারে করে উড়িয়ে আনা হয়। তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যারিবীয় সাগরের অজ্ঞাত একটি স্থানে অবস্থানরত মার্কিন নৌ জাহাজে, যার নাম ‘ইউএসএস আইডব্লিউও জিমা’।
সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে কিউবার গুয়ানতানামো বে-তে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অন্য একটি উড়োজাহাজে করে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টির স্টুয়ার্ট বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিমান ঘাঁটি থেকে আরেকটি হেলিকপ্টারে করে মাদুরোকে নিউইয়র্ক শহরে নেয়া হয়।
সেখানে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (ডিইএ) কার্যালয়ে নেওয়ার পর মাদুরোকে ব্রুকলিনের বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়। ভেনেজুয়েলার এই নেতা বন্দি হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করা পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে প্রায় ২১০০ মাইল (৩৩০০ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

