শীতের হিমেল হাওয়ার পাশাপাশি অনেকের মনে অকারণ বিষণ্নতা বা মন খারাপের ছায়া নেমে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় মৌসুমি বিষণ্নতা বা ‘উইন্টার ব্লুজ’। দিনের আলো কমে যাওয়া এবং দীর্ঘ রাতের প্রভাবে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়া থেকেই মূলত এই সমস্যার উদ্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে সূর্যালোকের অভাবে মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের মাত্রা কমে যায়, যা মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় অতিরিক্ত ঘুম ও ক্লান্তি দেখা দেয়। এর ফলে অকারণ বিষণ্নতা, কাজে আগ্রহ হারানো এবং সামাজিক যোগাযোগ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
বিষণ্নতা কাটানোর কার্যকর উপায়:
- আলোর সংস্পর্শ: প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় রোদে কাটানো বা দিনের আলোয় বাইরে বের হওয়া মস্তিষ্কে ইতিবাচক সংকেত পাঠায়। ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা জরুরি।
- শারীরিক পরিশ্রম: নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগাসন শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ নিঃসরণ করে, যা প্রাকৃতিকভাবে মন ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- সুশৃঙ্খল ঘুম: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সচল রাখে।
- সামাজিকতা: একাকী না থেকে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে একাকিত্ব দূর হয় এবং মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়।
- নিজের প্রতি যত্ন: নিয়মিত রুটিন মেনে চলা এবং নিজের শখের কাজে সময় দিলে মানসিক স্থিরতা আসে।
সামান্য কিছু সচেতন অভ্যাস আর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে শীতের এই বিষণ্ন দিনগুলোকেও আনন্দময় ও প্রাণবন্ত করে তোলা সম্ভব।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

