না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন স্কটল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার জন রবার্টসন। দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) মারা গেছেন নটিংহ্যাম ফরেস্টের সাবেক এই উইঙ্গার। যাকে এক সময় ম্যানেজার ব্রায়ান ক্লফ ‘আমাদের খেলার একজন পিকাসো’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মৃত্যুকালে রবার্টসনের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
জন রবার্টসনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে নটিংহ্যাম ফরেস্ট। এক বিবৃতিতে ক্লাবটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা খুব মর্মাহত হয়ে আমাদের বন্ধু ও নটিংহাম ফরেস্টের কিংবদন্তি জন রবার্টসনের মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। আমাদের ক্লাবের সত্যিকারের গ্রেট এবং দুবারের ইউরোপিয়ান কাপজয়ী—জনের অতুলনীয় প্রতিভা, বিনয় ও নটিংহাম ফরেস্টের প্রতি তার অটল নিবেদন কখনোই বিস্মৃত হবে না।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের পূর্ববর্তী সংস্করণ ইউরোপিয়ান কাপে নটিংহাম ফরেস্ট যে দুবার শিরোপা জিতেছে, তাতে রবার্টসনের নামটাই আগে আসে। ১৯৭৯ সালে মালমোর বিপক্ষে ফরেস্টের ১-০ গোলের জয়ে ট্রেভর ফ্রান্সিসের জয়সূচক গোলের উৎস ছিল রবার্টসনের ক্রস। পরের বছর হামবুর্গের বিপক্ষে ফাইনালেও ১-০ গোলে জেতে ফরেস্ট এবং গোলটি করেছিলেন রবার্টসন।
স্কটল্যান্ডের হয়ে পাঁচ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৮ ম্যাচে ৮ গোল করা রবার্টসন ১৯৮১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেছিলেন। পরের বছর বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচই জিতেছিল স্কটল্যান্ড। ৫-২ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেছিলেন রবার্টসন। তবে জাতীয় দলের চেয়ে তার ক্লাব ক্যারিয়ারই বেশি আলোচিত।
১৯৭০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে রবার্টসন যোগ দিয়েছিলেন ফরেস্টে। ১৯৭৫ সালে ক্লফ ফরেস্ট কোচের দায়িত্ব নেওয়ার আগপর্যন্ত মাঝমাঠে তেমন একটা খেলার সুযোগ পাননি। ক্লফ বাঁ উইংয়ে খেলাতে শুরু করেন রবার্টসনকে। এরপর নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। ১৯৭৭ সালে ফরেস্ট ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে উন্নীত হয় এবং পরের বছর জিতে নেয় লিগ শিরোপা। এরপর টানা দুই বছর জেতে ইউরোপিয়ান কাপ।
ইংলিশ ফুটবলে সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে স্বীকৃত ক্লফ তার এই শিষ্যকে নিয়ে একবার বলেছিলেন, ‘ফুটবলে আমি যত সুন্দর ক্রসদাতাদের দেখেছি, তাদের মধ্যে অন্যতম সেরা। ব্রাজিলিয়ান কিংবা ইতালিয়ানদের মতোই সুন্দর। তাকে একটা বল এবং এক টুকরা মাঠ দিলে যেন শিল্পী হয়ে যায়—আমাদের খেলার পিকাসো।’
সংবাদমাধ্যম ‘নটিংহাম পোস্ট’ ২০১৫ সালে একটি জরিপের আয়োজন করেছিল। তাতে ভোটের মাধ্যমে রবার্টসনকে ফরেস্টের সর্বকালের সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। ক্লফ রবার্টসনের ওপর কতটা ভরসা রাখতেন, সেটা একটি পরিসংখ্যানেই বোঝা যায়। ফরেস্টে ক্লফের অধীন ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৮০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ২৪৩ ম্যাচ খেলেন রবার্টসন।
১৯৮৩ সালে রবার্টসনকে ডার্বি কাউন্টিতে বিক্রি করা হয়। যে কারণে ক্লফ ও তার সাবেক সহকারী পিটার টেলরের মধ্যে সম্পর্ক আর ভালো থাকেনি। ডার্বিতে দুই মৌসুমে ৭২ ম্যাচে মাঠে নেমে এই উইঙ্গার করেন ৩ গোল। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে ফরেস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে এক মৌসুমে ১১ ম্যাচ খেলেন তিনি। সবমিলিয়ে ফরেস্টের হয়ে ৪৯৯ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৯৫।
ফরেস্টে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে কিছু নন-লিগ দলেও খেলেন রবার্টসন। নটিংহ্যাম ফরেস্ট সতীর্থ মার্টিন ও’নিলের সহকারী কোচ হিসেবে ওয়াইকম্ব ওয়ান্ডারার্স, নরউইচ সিটি, লেস্টার সিটি, সেল্টিক এবং অ্যাস্টন ভিলায় দায়িত্ব পালন করেন রবার্টসন। শেষ জীবনে পারকিনসনস রোগে ভুগেছেন রবার্টসন।

