রাজধানীর কাওরান বাজারে মানববন্ধন করছেন মোবাইল বিক্রেতারা। ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মোবাইল ফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে রোববার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এ মানববন্ধন করা হয়।
মোবাইল বিক্রেতাদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) এর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে নিজেদের দাবি জানাচ্ছেন তারা।
আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মো. আসলাম বলেন, সরকারের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা এই এনইআইআর সিস্টেম চালু করবেন না। আমরা চাই এনবিআর, বিটিআরসি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আমরা ব্যবসায়ীরা একসাথে বসি। আপনারা এটার সুষ্ঠু সমাধান দেবেন এবং সহজিকরণ করবেন। আর যদি এটা না হয়, যদি আমাদের রাস্তায় নামতে হয় তাহলে আমরা ব্যবসায়ীরা এনবিআর, বিটিআরসি ওনাদের বাসায় গিয়ে আমাদের পরিবার নিয়ে হাজির হব। আমরা ২০ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী ব্যবসা করি। আমাদের মূল দাবি হচ্ছে ইমপোর্ট প্রক্রিয়াটি সরকার আরও সহজ করে দিক। একটি কোম্পানি যদি ইমপোর্ট করে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ভ্যাট লাগে, আমাদের লাগে ৫৭ শতাংশ। এটা সহজ করে দিন। আমরা ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স দিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা করতে চাই। কর বেশি হলে ভোক্তা সাফার করবে। ভোক্তার কথা মাথায় রেখে এটা কমানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আমরা ট্যাক্স, ভ্যাট দিতে চাই। কিন্তু ভ্যাট এমন পর্যায়ে রাখা হয়েছে যে বৈধভাবে ফোন আমদানি করা সম্ভব নয়। বারবার বলছি—সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু কেন কথা শুনছে না, সেটা আমরা জানি না।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, বিটিআরসি আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে যে এনইআইআর সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে, তা মূলত বাজার নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ‘আজকে ২০ হাজার টাকার ফোন কালকে যদি ৩০ হাজার টাকা দাম দেয়। সাধারণ মানুষের কিছু করার থাকবে না।’
শামীম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনটি কোম্পানির মালিক। তাঁকে সুবিধা দিতেই পুরো দেশকে জিম্মি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এনইআইআর সিস্টেম চালু করতে নয় কোম্পানি মিলে ১১ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করছে। বিটিআরসির কি টাকা নেই? রাক্ষসদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সিস্টেম চালু করতে হবে?
মোবাইল ব্যবসায়ী সেলিম আহমেদ বলেন, ২৫ বছর ধরে আমরা এই ব্যবসায় আছি। কিন্তু হঠাৎ করে নয় সিন্ডিকেট দিয়ে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আমরা কর, ভ্যাট দিতে চাই, কিন্তু ভ্যাট ৫৭ শতাংশ হলে ব্যবসা চলবে কীভাবে? সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাই, কিন্তু ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
তিনি আরও বলেন, ২০ লাখ পরিবার সরাসরি এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। তাদের পথে বসিয়ে দিলে প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।

