spot_img

হামাসের প্রতিক্রিয়া দেখে ট্রাম্প, ‘ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে’

অবশ্যই পরুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় পরিকল্পনার বিষয়ে হামাসের প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি ‘দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’র সম্ভাবনা দেখছেন। ফলে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করতে বলেছেন তিনি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।

শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যাতে আমরা দ্রুত ও নিরাপদে জিম্মিদের মুক্ত করতে পারি।’

হামাস এরইমধ্যে ট্রাম্পের প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে। এতে সব ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি, নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর এবং গাজা প্রশাসন একটি স্বাধীন প্রযুক্তিগত (টেকনোক্র্যাট) ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি অনুমোদন করেছে।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে গাজায় ৪৮ জন ইসরায়েলি বন্দি রয়েছে, এর মধ্যে ২০ জন জীবিত। অন্যদিকে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ১১ হাজার ফিলিস্তিনি আটক রয়েছেন, যাদের অনেকেই নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা সেবার অভাবে মারা গেছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

হামাস টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, গাজার ভবিষ্যৎ ও ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রস্তাব অনুযায়ী সমাধান হতে হবে। সংগঠনটি আরও জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ আরব, ইসলামি ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রচেষ্টাকে তারা মূল্যায়ন করছে—যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ, গাজা দখল প্রত্যাখ্যান এবং জনগণের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি রোধে।

এদিন ট্রাম্প হামাসকে আগামী রোববার ওয়াশিংটন সময় সন্ধ্যা ৬টা (বাংলাদেশ সময় সোমবার ভোর ৪টা) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজাকে অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা করা হবে এবং একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে ট্রাম্প নিজে এর বাস্তবায়ন তদারকি করবেন।

পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, অনুমোদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাসের হাতে থাকা সব ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি পাবে এবং বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলি কারাগার থেকে ছাড়া হবে। ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে সরে যাবে এবং একটি প্রযুক্তিগত প্রশাসন আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে শাসনভার গ্রহণ করবে।

২০০৭ সাল থেকে গাজায় অবরোধ জারি রেখেছে ইসরায়েল। গত মার্চে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় অবরোধ আরও কঠোর হয়, ফলে ফিলিস্তিনি উপত্যকাটি দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৩০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজা এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, সেখানে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

সর্বশেষ সংবাদ

হাসনাতের আসনে বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি, পারবেন না ভোট করতে

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপি হওয়ায় নির্বাচন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। ঋণখেলাপির তালিকা থেকে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ